You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নালিতাবাড়ীতে মসজিদের জমি উদ্ধার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় বাতকুচি বেকিকুড়া জামে মসজিদের দখলকৃত জমি উদ্ধার ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে শনিবার (১৪ জুলাই) মসজিদ কমিটি ও এলাকাবাসী এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এদিকে জমি নিয়ে ইউপি সদস্য কামাল হোসেনকে মারধররের ঘটনায় মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামছুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, আবদুল কাদির (৬০) তার পরিবার নিয়ে উপজেলার বেকীকুড়া গ্রামের জামে মসজিদ সংলগ্ন সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত ২০ শতাংশ জমিতে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করে আসছেন। গত ৩০ জুন প্রতিবেশি মো. ফজলুল হক (৪৫) তার বড় ভাই শামছুল হক, তার ছেলে মো. আজগর আলী, আলী আকবর (৪৮), সইজ উদ্দিন (৩৫) ও আলী আহম্মেদ (৫৫) কাদিরের বাড়ি যান। কাদিরের স্ত্রী ও সন্তানকে মসজিদের জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়। বিষয়টি পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানকে জানানো হয়। চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৯ নং ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন দুই পক্ষকে নিয়ে গত ৪ জুলাই বিকেলে বেকীকুড়া ঈদগাহ মাঠে বৈঠকে বসেন। বিরোধ মিমাংসার শেষ পর্যায়ে প্রতিপক্ষ ও কামালের ভাই খবির উদ্দিনের সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংর্ঘষ বাধে। এতে ইউপি সদস্য ও তার ভাই মারধরের শিকার হন। ওই দিন রাতে ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিন বাদি হয়ে ফজলুল হক ও তার ভাইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার সকালে পুলিশ মারধরের ঘটনায় আমবাগান বাজার থেকে শামছুল হককে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষের লোকজন মিথ্যা মামলা দাবি করে শনিবার বেলা ১২টার সময় আমবাগান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শামসুল হকের মুক্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া মামলায় নিরিহ এলাকাবাসিকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে দাবি করেন এলাকাবাসি। তারা বলেন, এটা বেকীকুড়া জামে মসজিদের জমি। মসজিদের জমি ছাড়তে কাদিরকে বলা হয়েছে। এখানো কাউকে কোন প্রকার মারধর করা হয়নি বলে দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সুবাহান, মসজিদ কমিটির সভাপতি ঈমাম আলহাজ্ব মাওলানা মো.আবদুর রহমান জাওহারী, ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল হক ও সুলতান আহম্মেদসহ শতাধিক এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সুবাহান বলেন, বিচার শেষে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেম্বারের ভাই খবিরের সঙ্গে ধাক্কা ধাক্কি হয়। ইউপি সদস্যকে কোন মারধর করা হয় নাই। এলাকার ৬ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশের আতংকে পুরুষশুণ্য হয়েছে গ্রাম। মানুষ রাতেও বাড়িতে থাকে না। তাই এই মিথ্যা মামলা প্রত্যারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে শামছুল হকের নিঃর্শত মুক্তির দাবী জানাই।
পোড়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো.আজাদ মিয়া বলেন, ইউপি সদস্যকে মারধর করা মানে আমাকে মারা হয়েছে। এ অভিযোগে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অপরপক্ষ মিথ্যা মামলা দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দুই পক্ষকে নিয়ে দুই এক দিনের মধ্যে বসে বিষয়টি মিমাংশা করা হবে।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা নালিতাবাড়ী থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্যের মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শামছুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত চলছে। কে অপরাধি, আর কে অপরাধি না তা তদন্ত শেষে জানা যাবে ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!