You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নালিতাবাড়ীতে বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি নেই

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে এবারের আমন আবাদে বাম্পার ফলন হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। অন্যান্য জিনিসপত্রের তুলনায় শুধুমাত্র ধানের দাম কম থাকায় কৃষকের মুখের হাসি ম্লান হয়ে গেছে বলে কৃষকরা জানান।

নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবার আমন আবাদে ২২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান লাগানো হয়েছিল। এরমধ্যে, ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর হাইব্রিড জাতের, ১০ হাজার ৩৮০ হেক্টর উফসী জাতের ও ৮ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের ধান লাগানো হয়। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষক তাদের সোনার ফসল কাটতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় ধান ব্যবসায়ী হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ বলেন, পাইজাম ধানের বর্তমান বাজার দর ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, ব্রি-ধান ৪৯ জাতের ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, স্বর্ণলতা (স্থানীয়) জাতের ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, ধানী গোল্ড (হাইব্রিড) জাতের ধান ৬২০ থেকে ৬৩০ টাকা আর সুগন্ধী তুলসীমালা ও চিনি শাইল জাতের ধান ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা দরে কিনছেন।

শেকেরকুড়া গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম বলেন, ১ একর জমি আবাদ করতে কৃষকের খরচ হয় ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা। এরমধ্যে বীজতলা তৈরি বাবদ ১ হাজার, জমি চাষ বাবদ ৩ হাজার টাকা, রোপন বাবদ ৩ হাজর, সার-বিষ বাবদ ৪ হাজার, আগাছা দমন বাবদ ৩ হাজার, ধান কাটা বাবদ ৫ হাজার, মাড়াই বাবদ ২ হাজার টাকাসহ উৎপাদন খরচ হচ্ছে ২১ হাজার টাকা। এরমধ্যে কৃষকের নিজের শারীরিক শ্রমতো আছেই। আর দিন হাজিরা কাজের লোকের মজুরী ৫০০ টাকা।

দুধকুড়া গ্রামের কৃষক সাবের উদ্দিন বলেন, ব্রি-ধান ৪৯ জাতের বর্তমান বাজার দর ৬০০ টাকা করে হলে একর প্রতি ৪০ মন (শুকনা ধান) উৎপাদন ধরে হিসেব করে বিক্রয় মুল্য আসে ২৪ হাজার টাকা। এখান থেকে উৎপাদন ব্যয় ও কৃষকের নিজের শ্রম বাদ দিলে কিছুই লাভ থাকে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান বিক্রি করে সংসার চালায়। অন্যান্য জিনিসের তুলনায় শুধুমাত্র ধানের দামই কম। তাই সরকার যদি বিদেশ থেকে চাল আমদানি না করে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য ধরে ধান বা চাল ক্রয় করত তাহলে কৃষকরা কোনমতে চলতে পারত।

আন্ধারুপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগেও ১০ টাকা কেজি দরে সরকার চাল বিক্রি করেছে। এর প্রভাব বর্তমানে ধানের বাজারে পড়েছে। তাই কৃষক দেশের মানুষের খাদ্যের যোগান দেয় সরকার যদি কৃষকের ধানের ন্যায্য মুল্য না দেয় তাহলে কৃষক কিভাবে বাঁচবে ?

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ ইকবাল বলেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার নালিতাবাড়ীতে বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কৃষকের অভিযোগ ঠিক না, তারা এবারের বাম্পার ফলনে ধানও বেশি পেয়েছে। সরকার ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রয়ারী/ ২০১৯ ইং পর্যন্ত প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা দরে ক্রয় করার সিন্ধান্ত নিয়েছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!