নালিতাবাড়ীতে বছরে একদিনও স্কুলে আসেন না শিক্ষিকা

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা কর্মক্ষেত্রে যোগদান করার পর প্রায় এক বছর অতিবাহিত হতে চলেছে একদিনও বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাননি। ওই শিক্ষিকার নাম ছন্দা মাজহার। তিনি উপজেলার পোড়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিগত ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর যোগদান করেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনেওয়াজ জানান, যোগদানকৃত ওই শিক্ষিকা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষিকা পদে যোগদান করেছেন। এরপর থেকেই তার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ নেই। এতে বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এই বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষক নিয়োগ থাকলেও শিক্ষিকা ছন্দা মাজহার মাসের পর মাস কোন প্রকার ছুটি গ্রহন বা যোগাযোগ ছাড়াই অনুপস্থিত রয়েছেন। বিগত ১৯৫২ ইং সালে স্থাপিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১৮০ জন। পোড়াগাঁও ইউনিয়নের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে কাজের চাপও থাকে বেশি।

তিনি আরো জানান, শিক্ষিকা ছন্দা মাজহারের অনুপস্থিতির প্রতিবেদন আমি প্রতিমাসে উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে আসছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসার কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই শিক্ষিকা উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নন্নী পুর্ব পাড়া গ্রামের মৃত মুক্তিযোদ্ধা আবু মোঃ মাজহার আলীর কন্যা। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটা থেকেই তিনি চাকুরী প্রাপ্ত হয়েছেন।

ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিকা ছন্দার দীর্ঘদিন যাবত অনুপস্থিত থাকা বিষয়টির জন্য আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে লিখিতভাবে অবগত করেছি। কিন্তু কোন ফল হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজিলাতুননেছা জানান, বিষয়টি আমি অবগত আছি। অনুপস্থিত ওই শিক্ষিকা ছন্দা মাজহারকে শোকজ করা হয়েছে এবং জেলা শিক্ষা অফিসারকেও অবগত করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের