নালিতাবাড়ীতে ত্রিমুখী প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচন

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী প্রচারণায় জমে উঠেছে। জেলার গুরুত্বপুর্ণ এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। কেননা জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) ভিআইপি এই আসন থেকে সাবেক সফল কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিজয়ী হয়ে মহান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাই এই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদটি পাওয়ার জন্য প্রার্থীরা জোড় প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। থেমে নেই ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও। চেয়ারম্যান পদে সুষ্ঠু নির্বাচনের শর্তে বিজয়ী প্রার্থীর বিষয়ে নানারকম গুঞ্জন শোনা গেলেও ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছে অনেকটাই ধুয়াশা। পঞ্চমবারের মতো নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাচনে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী এবং একই দলের সমর্থক হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঘিরে যেন উত্তেজনার ছড়াছড়ি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন ৪ জন। এরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোশারফ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবু, স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরকার গোলাম ফারুক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুর রহমান। এরমধ্যে হাজী মোশারফ হোসেন নৌকা প্রতীক, মোকছেদুর রহমান লেবু মোটরসাইকেল প্রতীক, সরকার গোলাম ফারুক আনারস প্রতীক এবং ফজলুর রহমান ঘোড়া প্রতীক নিয়ে মাঠে লড়ছেন।

হাজী মোশারফ হোসেন দলীয় প্রার্থী হওয়ায় নানা কারণে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চিত হয়ে মাঠে রয়েছেন দিনরাত। দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে তার সাথে মাঠে রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরাও। চলছে জোর প্রচার-প্রচারণা। সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ও প্রার্থীর উদারতা মূল্যায়ন করে ভোটারদের অংশগ্রহণে বিজয় তাদের দুয়ারে উঁকি দিবে এমন ধারণা এ প্রার্থী ও সমর্থকদের।

মোকছেদুর রহমান লেবু প্রবীণ, পরিচিত মুখ হওয়ায় তিনি ও তার সমর্থিতরা সুষ্ঠু নির্বাচন হলে পাশের গ্যারান্টি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। সাথে রয়েছেন পৌর মেয়র আবুবক্কর সিদ্দিকসহ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। নানা কারণে ভোটারদের কাছে দলীয় প্রতীক এখানকার ভোটারদের কাছে অনেকটাই গুরুত্বহীন বলে এ অংশের ধারণা।

সরকার গোলাম ফারুক সাবেক এমএলএ মরহুম আব্দুল হাকিম সরকার এর ছেলে ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা সমর্থিত হওয়ায় তিনি এবং তার সমর্থিতরাও বিজয়ে আশাবাদী। দিনরাত এক করে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচারণা। উপরোক্ত দুই প্রার্থীর রশি টানাটানিতে বিজয় তাদের ঘরে দেখা দিবে বলে তারা যথেষ্ট আশাবাদী। তবে অপর প্রার্থী ফজলুর রহমানের বিষয়ে ভোটারদের কোন আগ্রহ দেখা যায়নি।

এদিকে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ প্রার্থী। এরা হলেন- চশমা প্রতীক নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হাজী আমিনুল ইসলাম, উড়োজাহাজ প্রতীক নিয়ে শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রিন্সিপাল মুনীরুজ্জামান, টিউবওয়েল প্রতীক নিয়ে উপজেলা যুবলীগের সদস্য শেখ ফরিদ, মাইক প্রতীক নিয়ে উপজেলা জাতীয়পার্টির সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, তালা প্রতীক নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সভাপতি ও সাবেক জিএস আসাদুজ্জামান সোহেল ও টিয়াপাখি প্রতীক নিয়ে আব্দুল কাইয়ুম।

এ পদে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে হাজী আমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হওয়ায় প্রিন্সিপাল মুনীরুজ্জামান যেমনি আশাবাদী তেমনি দলের তৃণমূল ভোটে উঠে আশায় অনেকটা আশাবাদী শেখ ফরিদও। তবে আঞ্চলিকতার টানে আশাবাদী অপর প্রার্থী সোহেল রানা মিঠুও।

এছাড়াও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি নেত্রী ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগম হাঁস প্রতীক নিয়ে, আশুরা বেগম কলসী প্রতীক নিয়ে ও মালা রানী সাহা ফুটবল প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে সহকারী রির্টারনিং কর্মকর্তা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. অরিফুর রহমান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা আনন্দঘন পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এরইমধ্যে প্রশাসনিকভাবে সকল প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের