নালিতাবাড়ীতে আসবেন না মিজানুর রহমান আজহারী

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী শেরপুরে নালিতাবাড়ীর ইসলামিক মাহফিলে আসবেন না। তার না আসার বিষয়টি উপজেলার উত্তর কাপাসিয়া জামে মসজিদের ইমাম মো. আক্তারুজ্জামান আক্তার নিশ্চিত করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর কাপাসিয়া জামে মসজিদের আয়োজনে আগামী ২১ জানুয়ারী এক ইসলামিক মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে এ সময়ে জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা হযরত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী উপস্থিত থাকবেন বলে গুঞ্জন উঠে। কিন্তু গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে মিজানুর রহমান আজহারীর জানুয়ারী মাসের মাহফিলের সময় সূচি হাতে আসে।

সেই সময় সূচিতে দেখা যায়, আগামী ১৭ জানুয়ারী ফরিদপুরের কোমরপুর, ২০ ফেব্রুয়ারি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার মুখিগঞ্জ বাজার জামিয়া মাঠ, ২১ জানুয়ারী বিকেলে নীলফামারীর বসুনিয়া পাড়া বটতলা, ২৩ জানুয়ারী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার কামরুল ইসলাম কলেজ মাঠে মিজানুর রহমান আজহারীর ইসলামিক সভা রয়েছে। কিন্তু তার এই সময় সূচিতে নালিতাবাড়ীর নাম নেই। তাই বিভিন্ন সূত্রে যোগাযোগ করার পর অবশেষে জানা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারী নালিতাবাড়ীর ইসলামিক সভায় আসবেন না।

তার না আসার কারণ হিসেবে আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান আজহারীর সাথে আয়োজক ঠিক মতো যোগাযোগ করতে পারেননি। যে মাধ্যমে তারা মিজানুর রহমানকে দাওয়াত দিয়েছিলেন সেই মাধ্যমটি ভুল ছিল। তাই তিনি আসবেন না। তবে তিনি আগামী ডিসেম্বরে তার সিডিউলের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে মিজানুর রহমানের ব্যাক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন বলে আয়োজকদের দাবি।

এ বিষয়ে উত্তর কাপাসিয়া জামে মসজিদের ইমাম মো. আক্তারুজ্জামান আক্তার বলেন, “মিজানুর রহমান আজহারী সাহেব নালিতাবাড়ী আসছেন না এটা আগে জানতে পারি নি৷ একটু আগে জেনেছি তিনি আসবেন না। তিনি আরও বলেন, তবুও আমরা চেষ্টা করেছিলাম উনাকে আনার জন্য। কারণ নীলফামারীর মাহফিল বিকেলে। আর আমাদের মাহফিল সকাল ১০টায় হওয়ার কথা ছিল, সেসময় আজহারী সাহেবে মাহফিল নেই৷ তাই আমরা অনুরোধ করেছিলেন হেলিকপ্টারে আসার। কিন্তু এখন কুয়াশাময় আবহাওয়ায় হেলিকপ্টারে আসা ঝুঁকি বলে তার ব্যাক্তিগত সহকারী জানিয়েছেন৷

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী ১৯৯০ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার ডেমরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত দারুন্নাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা থেকে ২০০৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০০৬ সালে আলিম পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করেন। ২০০৭ সালে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মিসর সরকারের শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রাজুয়েট করার জন্য মিসরে যান। সেখান থেকে ডিপার্টমেন্ট অব তাফসির অ্যান্ড কুরআনিক সায়েন্স থেকে ২০১২ সালে শতকরা ৮০ ভাগ সিজিপিএ নিয়ে অনার্স উত্তীর্ণ হন। মিসরে পাঁচ বছর শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করার পর ২০১৩ সালে মালয়েশিয়া যান। সেখানে গার্ডেন অব নলেজ খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব কোরআন অ্যান্ড সুন্নাহ স্টাডিজ থেকে ২০১৬ সালে পোস্ট-গ্রাজুয়েশন শেষ করেন। মাস্টার্সে তার সিজিপিএ ছিল ৩.৮২ আউট অব ফোর।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।