নতুন বছরের প্রত্যাশা

এসেছে ২০২০ সাল। এ বছরটা বাঙালিদের জন্য একটু আলাদা; কারণ, ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী।

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপিত বঙ্গবন্ধু। তিনি সারাটি জীবন বাঙালির মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন, জেল খেটেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তিনি ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত উপকারী ও জনদরদি মানুষ।

মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। কবি বলেছেন, ‘এমন জীবন তুমি করিবে গঠন/মরণে হাসিবে তুমি কাঁদিবে ভুবন।’ শেখ মুজিব সেই জীবন গঠন করতে পেরেছেন, যার জন্য তাকে মানুষ স্মরণ করে, হৃদয় দিয়ে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে।

আরেক কবি বলেছেন, যতদিন রবে পদ্মা, মেঘনা গৌরী, যমুনা বহমান/ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ মুজিব প্রত্যেক বাঙালির হৃদয়ে রয়েছেন। তার ৭ মার্চের ভাষণ মুক্তির মূলমন্ত্র, বাঙালির মুক্তির শ্রেষ্ঠ সনদ।

কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে দেখে বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি; কিন্তু আমি শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখেছি। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদান, যার কারণে আমরা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র কায়েম করতে সক্ষম হয়েছি। এবং আমাদের দেশের একটি মানচিত্র হয়েছে, একটি পতাকা হয়েছে। আমরা বিশ্বের দরবারে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছি।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন ছিল সাম্য-মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন একটি রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ। এখানে থাকবে না কোনো শোষণ-অত্যাচার। কোনো হামলা, হানাহানি, ধর্ষণ থাকবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের সোনার বাংলা এখন পর্যন্ত গঠিত হয়নি।

এখনও রাস্তায় খুন হয়, ধর্ষণ হয়; রাষ্ট্র দ্বারা মানুষ হত্যা বন্ধ হয়নি। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসেনি। রাষ্ট্রের সমালোচনা আমরা সবাই করতে পারি; কিন্তু রাষ্ট্রের উন্নতির জন্য কাজ করতে পারি না।

আমরা দেখছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হওয়ার পর নির্বাচিত ভিপিকে কীভাবে পদে পদে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। উল্টো তার বিরুদ্ধে মামলা ঠোকা হল। দেখলাম ফেনীতে নুসরাত হত্যা, বুয়েটে আবরার হত্যা। সব মিলিয়ে এক অসহিষ্ণু পরিবেশ ছিল ২০১৯ সালে।

দেশের একটি দৈনিক পত্রিকা সম্প্রতি জরিপ করেছে। এতে দেখা যায়, তরুণরা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় খুশি; কিন্তু তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কথা হল, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যদি না থাকে তবে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আসার কথা নয়।

আমার সাদা চোখে দেখা বিষয়টি হল, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম রাজনীতিবিমুখ। এ রাজনীতিবিমুখ হওয়ার পেছনে সরকারেরও ভূমিকা রয়েছে।

আমরা চাই একটা অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র, যেখানে মানুষে মানুষে সংঘাত থাকবে না। দিনদুপুরে খুন হবে না কেউ। আমাদের বোনরা ধর্ষণের শিকার হবে না। সব রাজনৈতিক দল তাদের ইচ্ছামতো রাজনীতি করতে পারবে।

সব নাগরিকের মতপ্রকাশের অধিকার থাকবে। বাকস্বাধীনতা থাকবে। সন্ত্রাসী-রাহাজানি ইত্যাদি থাকবে না। কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবে। সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে সক্ষম হবে। তাহলেই আমাদের দেশটা সুখী একটি দেশে পরিণত হবে।

নতুন বছরে আমাদের প্রত্যাশা হল, সব মানুষ যেন নিজ পছন্দের রাজনীতি করার সুযোগ পায়। মতপ্রকাশের সুযোগ পায়। কৃষক যেন তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়। মানুষ যেন নিরাপদে বসবাস ও চলাফেরা করতে পারে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।