You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নকলায় লটকন চাষে সফলতা

নকলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বানিজ্যিক ভাবে লটকন (বুবি) চাষ করে অনেকেই আর্থিক সফলতা অর্জন করছেন। গত দুই তিন বছরেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক চাষী এ লাভজনক চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

টক মিষ্টি সংমিশ্রিত লটকন ফল যার স্থানীয় নাম বুবি। এটা খেতে খুবই সু-স্বাধু, এ ফল শিশু ও সকল বয়সের নারীদের কাছে খুবই প্রিয়। ঐতিহ্যগতভাবে ঝুপ জংলা বা বাড়ির আঙ্গিনায় প্রাকৃতিক উপায়ের দু-একটি লটকন গাছের সন্ধান পাওয়া যেত। কালে ভদ্রে লটকন গাছ যখন বিলুপ্তির পথে তখন কতিপয় চাষী বানিজ্যিকভাবে লটকন চাষ করে আর্থিক সফলতা অর্জন করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মৌসুমে চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বন্দটেকি গ্রামের শহিদুল ইসলাম, শরীফ হোসেন, মুনছেব আলী, খোকন মিয়া, নকলা পৌরসভার মুছারচর এলাকার সাইদুল ইসলাম, আক্কাছ আলী, ইন্তাজ মিয়া ও আব্দুল হাইসহ বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কৃষক লটকন চাষ করেছেন।

বন্দটেকি গ্রামের লটকন চাষী শহিদুল ইসলাম জানান, লটকন চাষে গাছের চারা কেনা ও রোপন খরচ ছাড়া আর কোন খরচ নেই। নামে মাত্র শ্রমে কোন প্রকার পরিচর্যা ব্যতিরেকেই এর ফলন পাওয়া যায়। উঁচু ও মাঝারি উঁচু বেঁলে বা বেঁলে-দোআঁশ মাটিতে লটকন ভালো জন্মে। বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি বা বিভিন্ন কাঠের বাগানে লটকনের চাষ করা যায়। তিনি জানান, ২০০০ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত নার্সারীর ব্যবসা করেছেন। ২০০৫ সালে লটকন বাগান করে স্বাবলম্বী হওয়ার সংবাদ পত্রিকায় দেখে তার বাড়ির আঙ্গিনার পরিত্যক্ত জমিতে ২০টি লটকন গাছ রোপন করে। পরের বছর ২৭ শতাংশ জমিতে ৭৫টি এবং ৩৫ শতাংশ জমিতে ৫৬ টি লটকন গাছ রোপন করেন। ২০১৫ সালে এসব গাছে ফল আসে, প্রথম বছর ৭ হাজার টাকার লটকন বিক্রি হয়। তার পর থেকে প্রতিবছর ফলন বাড়ার সাথে সাথে টাকা আয়ের পরিমাণও বাড়ে। চলতি মৌসুমে তার দুটি লটকন বাগানের ফল পাইকারদের কাছে অগ্রিম ৭৮ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন, অগ্রিম বিক্রি না করলে এর মুল্য হতো লাধিক টাকা। আরেক চাষী শরীফ হোসেন জানান, তার ১৪৫ টি গাছের ফল অগ্রিম এক লাখ ৪৫ হাজার টাকায় এবং মুনসেফ আলীর ৭৫ টি গাছের ফল ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। খোকনের ৬০ টি গাছের ফল পাইকাররা অগ্রিম কেনার জন্য দাম করেছেন ৪৫ হাজার টাকা।

নকলা উপজেলায় উৎপাদিত লটকন ফল নকলা বাজার, শেরপুর জেলাসহ পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে বিক্রি হচ্ছে।

লটকন চাষীরা জানান, লটকনের বীজ থেকে যে গাছ হয়, তাতে ফলন আসতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ বছর। তাই আমরা কলম করা গাছের লটকন চাষ করছি। কলমের গাছে রোপনের ২-৩ বছরের মধ্যেই ফলন আসে। লটকন গাছে মাঘ ফালগুন মাসে ফুল ধরে, জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে লটকন পাকা শুরু হয়, পুুরু আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসু জুড়ে বিক্রি করা যায়। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ লটকন ১ হাজার থেকে ১হাজার ৫শ টাকা মনে বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে এর মুল্যছিল দ্বিগুণএরও বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, উপজেলার গনপদ্দী, বানেশ্বরদী, টালকী, চন্দ্রকোণা ও নকলা ইউনিয়নসহ গৌড়দ্বার, পাঠাকাটা, চরঅষ্টধর ইউনিয়ন, পৌরসভার ধুকুড়িয়া, লাভা, গড়ের গাঁও, জালালপুর ও কায়দা এলাকার জমি অপোকৃত উঁচু এবং দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ হওয়ায় ওইসব এলাকা লটকন ফল চাষ করার উপযোগী। তাছাড়া বাড়ির আঙ্গীনায় এবং যেকোন কাঠ বা ফলের বাগানেও লটকন চাষ কার সম্ভব। ছায়া যুক্তস্থানের লটকন বেশি মিষ্টি হয়। তাই এটা চাষ করতে বাড়তি জমির দরকার হয়না। যেকোন কাঠের বা ফলের বাগানেও চাষ করা যায়। তাছাড়া ঝুঁকি মুক্ত এই ফলের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!