নকলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৩ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

শেরপুরের নকলায় দোকানে মূল্য তালিকা ঝুলানো না থাকার অপরাধে তিন চাল ব্যবসায়ীকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা অর্থদন্ড করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। শুক্রবার (২০ মার্চ) রাতে নকলা চালবাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান অভিযান পরিচালনা করে এ অর্থদন্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ অভিযানে নকলা পশ্চিম বাজার (চাল বাজার) এর তারেক ষ্টোর এর স্বাত্ত¡াধিকারী চাল ব্যবসায়ী রবিনকে ৩ হাজার টাকা, ওয়াজকুরুনী এন্টারপ্রাইজের স্বাত্ত¡াধিকারী চাল ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে ৩ হাজার টাকা এবং ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজের স্বাত্ত¡াধিকারী চাল ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনকে ২ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোট ৮ হাজার ৫০০ টাকা নগদ জরিমানা আদায় করে ভ্রাম্যামন আদালত।

নকলা বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলা পর্যায়ে একপ্রকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমরা চাতাল ব্যবসায়ী বা বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনে এনে স্বল্প লাভে বিক্রি করি। আমরা বেশি দামে চাল কিনে এনে কমদামে বিক্রি করতে পারিনা। তাই চাল উৎপানকারী, বড় বড় ব্যবসায়ী ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারী বাড়ানো উচিত।

নকলা বাজার চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ লালন বলেন, আমাদের মতো খুচরা বিক্রেতাদের ওপর নজরদারী না বাড়িয়ে সরকারের উচিত দ্রব্যমূল্যের যেকোন সমস্যা মোকাবেলায় উৎপানকারী, বড় বড় ব্যবসায়ী, ডিলার ও পাইকারী ব্যবসায়ীদের ওপর নজরদারী বাড়ানো। মূলত যেকোন পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সরাসরি দায়ী। তারা দেশের যেকোন সমস্যা অনুভব করলেই দ্রæত সময়ের মধ্যে সিন্টিকেট করে ফেলে। এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্টিকেট ভাঙতে পারলেই যে কোন দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবেনা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান জানান, নিষিদ্ধ পণ্য বেচা-কেনা, মজুদ, সরবরাহ ও অস্বাভাবিক বেশি দামে কোন পণ্য বিক্রি কার থেকে বিরত থাকতে ইতোমধ্যে মাইকিং করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের নজরে পড়ে এমন স্থানে মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশনা দেওয়া আছে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানাতে বলা হয়। এর প্রমান পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী বিচারক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান।

তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান করোনা ভাইরাস নিয়ে যে সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। তা এখন সরকারসহ সর্বসাধারণকে ভাবিয়ে তুলছে। এমতাবস্থায় সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। তবে বিদেশ থেকে বাড়িতে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা আবশ্যক। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের কড়া নজরদারীতে রাখা হয়েছে বলে জানান ইউএনও জাহিদুর রহমান জানান। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা কোন ব্যক্তি কোয়ারেন্টাইন আইন ভঙ্গ করলে তথা বাহিরে বেড় হলে এবং এর সুষ্পষ্ট প্রমান পেলে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।