You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

নকলায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা

শেরপুরের নকলায় শ্রমজীবী লোকের ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্মৃতি স্মরণে “শ্রমিক-মালিক গড়বো দেশ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন এবং শ্রমিক লীগ ও তার সকল অঙ্গসংগঠনের যৌথ আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাসুদ-উল-আলম, ওসি খাঁন আব্দুল হালিম সিদ্দিকী, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য খন্দকার রবিউল করিম মানিক, সাধারণ সম্পাদক বাবু শ্যামল সূত্রধর, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মিয়া, নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমানসহ বিদ্যুৎ কারিগরি শ্রমিক ইউনিয়ন, রাজমিস্ত্রী বহুমুখী কল্যাণ সমিতি, অটোটেম্পু, অটোরিক্সা ও সিএনজি চালক শ্রমিক ইউনিয়ন, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, কাঠ মিস্ত্রী শ্রমিক ইউনিয়ন, রিক্সা-ভ্যান, ট্রাক-ট্যাংক-লড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন, হোটেল রেস্তুরা শ্রমিক ইউনিয়ন, রং মিস্ত্রী শ্রমিক ইউনিয়ন, করাতকল শ্রমিক ইউনিয়ন ও অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়ন নামক সংগঠনসহ অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা দিনটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন-১৮৭২ সালে কানাডার এক শ্রমিক সমাবেশে মালিক পক্ষের লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরন ঘটায় এতে একজন পুলিশ নিহত হন। অতঃপর পুলিশরা শ্রমিক সমাবেশে গুলি বর্ষন করেন, তাতে কমপক্ষে ১১জন শ্রমিক প্রান হারায়, আহত হয় অগনিত শ্রমিক। পুলিশ হত্যার অভিযোগ এনে অগাষ্ট স্পিচ সহ ৮জন শ্রমিক নেতাকে জেলে প্রেরণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় শিল্প বিপ্ল¬বের শুরুতে শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরীসহ দৈনিক ১০-১৪ ঘন্টা কাজের পরিবর্তে দৈনিক ৮ঘন্টা কাজের দাবীতে ৭ অক্টোবর ১৮৮৪ তারিখে শিকাগোর হারভেস্ট মেশিন কোম্পানীর শ্রমিকরা ১লা মে ১৮৮৬ পর্যন্ত সময় বেধে দেয়। ৩ মে ১৮৮৬ তারিখে ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং ৪মে ১৮৮৬ তারিখে ৩লক্ষাধিক শ্রমিক একত্র হয়। আন্দোলনকারী শ্রমিকদের উপর পুলিশ গুলি চালায় এতে ১জন নিহত ৫জন মারাত্বক আহতসহ অনিদৃষ্টসংখ্যক শ্রমিক আহত হন। আন্দোলনকে চিরতরে স্থিমিত করার লক্ষ্যে অগাষ্ট স্পিচ সহ অভিযুক্ত ৮জন শ্রমিক নেতাকে বিচারাধীন আনা হয় এবং ১১নভেম্বর ১৮৮৭ তারিখে ১জনকে ১৫ বছরের কারাদন্ড ৬জনকে জনসম্মুখে ফাঁসিতে ঝুলানো হয় এবং ১জন নিদৃষ্ট তারিখের পূর্বেই কৌশলে কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তবুও আন্দোলন চলতে থাকে। ১৮৯০ সালে সোশ্যালিষ্ট লেবার ইন্টারন্যাশনাল সম্মেলনে জার্মান কমিউনিষ্ট নেত্রী ক্লারা জেটকিন ঘোষনা দেন যে, ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করা হবে এবংকি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ১৮৯০ সাল থেকেই সারা বিশ্ব দিবসটি পালন করে আসছে। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা ও আত্মহুতির ফলেই ন্যূনতম মজুরী, নিরাপত্তা আইন, দৈনিক ৮ ঘন্টা শ্রমসহ বিভিন্ন যোগোপযোগী সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছে। আর তাইতো বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের কাছে এ দিবসটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে সেইসব শ্রমিকদের যাদের আত্ম ত্যাগের বিনিময়ে আজ ন্যায্য মজুরি সহ সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!