‘ধর্ষক’ মজনুর মুখে সেই দিনের বর্ণনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার মজনুকে সাত দিনের রিমান্ড দিয়েছেন ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মো. সারাফুজ্জমান আনছারী এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গতকাল বুধবার গ্রেপ্তারের পর ‘ধর্ষক’ মজনু ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বিবরণ দেন বলে জানায় র‌্যাব। র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বলেছেন, ৫ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি বিমানবন্দর সড়ক ধরে হাঁটছিলেন। এ সময় পিঠে ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যান মজনু। এরপর ছাত্রীকে ঘুষি, চড় মারতে থাকেন এবং গলা চেপে ধরে হত্যার হুমকি দেন।

র‌্যাব আরও জানায়, ওই অবস্থায় ঢাবি ছাত্রী পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তার যখন চেতনা ফিরে আসে, তখন তিনি সুযোগ বুঝে মজনুর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে পালাতে সক্ষম হন।

র‌্যাবের ভাষ্যমতে, ওই ছাত্রী ছুটে উড়ালসড়ক দিয়ে রাস্তা পার হয়ে রিকশা নেন। অন্যদিকে আসামি মজনু ওই রাতেই ছাত্রীটির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মুঠোফোনটি বিক্রি করে নরসিংদী চলে যান। পরে আবার ফিরে আসেন। গত মঙ্গলবার দিনভর মজনু বনানী রেলস্টেশন এলাকায় ছিলেন।

এর আগে গত সোমবার ঢাবি ছাত্রীর বাবা ওই ধর্ষণের ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। পরে তা তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবিকে। আসামি মজনুকে গতকাল সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবির কাছে হস্তান্তর করে র‍্যাব।

ওই ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় আজ দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে মজনুকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক।

এর আগে দুপুরে ডিবি কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার মজনুকে আদালতে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর ডিবির উপকমিশনার মশিউর রহমান।

মশিউর রহমান বলেন, ‘ডিএনএসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত পাওয়া গেলে আমরা দ্রুতই এ মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারব।’

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।