You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

“দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন”

“এই যে দেইখ্যা লন, বাইছ্যা লন, কম দামে ভালো কাপড়” এভাবেই নারী, পুরুষ, শিশু ও তরুণ-তরুণীদের মাঝে বিক্রি হচ্ছে ফুটপাতে শীতের পোশাক। ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেঁষা শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা। মেঘালয় পাদদেশে অবস্থান করায় কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার তীব্রতা বেশি। পাহাড়ে হিমেল হাওয়া আর শৈত্য প্রবাহের কারণে ক’দিন থেকে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। এতে জন-জীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। তবে শীতের কাপড়ের অভাবে নিম্ন আয়ের লোকগুলো হাড় কাপানো শীতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সুযোগে জমে উঠেছে শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারের ফুটপাতের দোকানগুলো।

শনিবার (১৩জানুয়ারী) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শহরের চৌরাস্তা মোড় জুড়ে রয়েছে ফুটপাতের দোকান। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০-১২টা পর্যন্ত এই দোকান গুলোতে চলে বেচা-কেনা। এসব দোকানে সর্বনিম্ন ৩শ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরণের শীতের কাপড় পাওয়া যায়। গাঁইটে যেসব ভাল জ্যাকেট, সোয়েটার, কোট, বাচ্চাদের কাপড় পাওয়া যায় সেগুলোর দাম একটু তুলনামূলক বেশি হয়। দোকানদাররা পোশাকের গাঁইট ক্রয় করেন ভাগ্যের উপর নির্ভর করে। মুখবন্ধ এসব গাঁইট কেনার আগে খুলে দেখার নিয়ম নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতি গাঁইট কিনে আনা হয় প্রায় ৫হাজার থেকে ২০হাজার টাকার মধ্যে। কিনে আনার পরে মুখ খুলে নির্ধারণ করা হয় লাভ-লোকসানের হিসাব। পোশাকগুলো গাঁইট থেকে বের করার পর দাম হাঁকেন বিক্রেতারা। কোন পোশাকের মূল্যে নির্দিষ্ট করা থাকে না। গাঁইট থেকে বেরিয়ে আসা বিদেশী পুরনো পোশাকটি ক্রেতার খুব পছন্দ হয়ে গেলে তা বুঝতে পারেন দোকানদাররা। সে অনুযায়ী দাম হাঁকা হয়। ক্রেতাদের কাবু করতে পারলে টাকার পরিমান বেড়ে যায়। এসব দোকানের বিক্রেতারা পোশাকের দাম নির্ধারণ করেন। তবে দর-কষাকষি ছাড়া পছন্দের পোশাক ক্রেতাদের কেনা সম্ভব হয় না। সব পোশাকের দাম একটু বেশি করে চাওয়া হয়। যাতে বিক্রেতারা তাদের লাভ পুষিয়ে নিতে পারেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবারের মতো এ বছরও শীতকালীন পোশাকের ব্যবসা জমে উঠেছে। গত কয়েকদিন ধরে শীত অপরিবর্তিত থাকায় চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সব বয়সী মানুষের পোশাক বিক্রয় হচ্ছে এসব দোকান গুলোতে। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান। যদি ভাগ্যে ছেঁড়া ফুটো পোশাক পড়ে তাহলে লাভ উঠতে অনেক কষ্ট হয়। কারণ ভাল পোশাক গুলো ক্রেতারা নিতে চায়। বাকী ছেঁড়া পোশাক গুলো ফেলে রাখতে হয়। ক্রেতারা এগুলো ভাল করে দেখে কেনেন। এসব পোশাক গুলো সাধারণত পুরনো পোশাকের মত হয়ে থাকে। একটি সোয়াটারের দাম ৭০-৩০০ টাকা, গেঞ্জি ৬০-১৫০ টাকা, জ্যাকেট ২১০-৫৫০ টাকা, বাচ্চাদের কাপড় ৩০-১২০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। টুপি ৩০-৪০ টাকা, মাফলার ২০-৫০ টাকা। তার মধ্যে থেকেই পছন্দের শীতের পোশাকটি বেছে নিতে চেষ্টা করেন ক্রেতারা। এ বছর শীতের পোশাকের চাহিদা তুলনামূলক ভাবে কিছুটা বাড়ছে। দৈনিক ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রয় হচ্ছে।

চৌরাস্তা মোড়ে পোষাক কিনতে আসা রনি মৃধা বলেন, বাচ্চাদের জন্য পোশাক কিনছি। ক’দিনে শীতের তীব্রতা বেশি হয়েছে। পছন্দ হলে নিজেও কিনবো। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের জন্যও শীতের পোশাক কিনতে হবে। এজন্য বাজার ঘুরে দেখতে এসেছি। মনের মতো পেলে কিনে নিয়ে যাব। পাশেই আরেকজন পোষাক কিনতে আসে ঝর্ণা নামে এক ক্রেতা। তিনি বলেন, ছোট মেয়েটার জন্য শীতের কাপড় কিনতে আসলাম। পছন্দ হলে আমার জন্যেও কিনবো।

পশ্চিম বাজার এলাকায় ফুটপাতের দোকানে গেলে কথা হয় রমজান আলী, বাবর হোসেনসহ কয়েকজনের সাথে। তারা এ প্রতিবেদককে জানান, তারা শীতের সময় শুধু এই ফুটপাতের দোকান করে। অল্প আয়ে ভালো রোজগার হয়। এখন তাদের দৈনিক বিক্রি হচ্ছে ৫-৬হাজার টাকা। সামনে আরো বেশি হবে আশা করছেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!