তালশাঁসের কদর বেড়েছে।। আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন অনেকেই

প্রচন্ড গরমে বিভিন্ন হাটবাজারে জমে উঠেছে লোভনীয় ফল তালশাঁসের বেচা-কেনা। এতে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন অনেক মৌসুমী ফল বিক্রেতা। শেরপুর জেলার সর্বত্রই কচি তালের শাঁস বিক্রির ধুম পড়েছে। বিশেষ করে জেলার নকলা উপজেলায় কচি তালের আমদানী ও তালের শাঁস বিক্রি সবার নজর কেড়েছে।

স্কুল, কলেজের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেনি ও সব বয়সের মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছে এই তালের শাঁস বা বীজ বা আঁটি। এই তালের শাঁসকে অনেকেই তালশাঁস বললেও কেউ কেউ বলেন তালের বীজ, আবার কেউবা বলেন তালের চোখ বা তালকোরা বা আঁটি।

তবে যে যেই নামেই চিনুক বা জানুক না কেন, এটি একটি অতিপরিচিত মৌসুমি ফল। মধুমাস জ্যৈষ্ঠতে বিভিন্ন ফলের সঙ্গে এই ফলের কদর অস্বাভিক ভাবে বাড়ে। কিন্তু গরমে দিনে খেতে বেশ সুস্বাদু তাল ফলটির শাঁস বিভিন্ন হাট-বাজারে, রাস্তার মোড়ে কিংবা ফুটপাতে বিক্রির ধুম পড়ে যায়।

ইতোমধ্যে অনেকেই এই কচি তাল বাজারে বিক্রির জন্য তুলেছেন। বিক্রেতারা তাল কেটে তালের শাঁস বা আঁটি বের কর গ্রাহক বা ক্রেতাদের হাতে তোলে দিচ্ছেন। প্রতিটি বীজ বা শাঁস বিক্রি করছেন ৫ টাকা করে। আর তালের আকার অনুযায়ী প্রতিটি তাল ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা করে বেচাকেনা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নকলা হাটের দিন সরজমিনে দেখা যায়, নকলা বাজারের কাচারী মোড়, থানার সামনে, উত্তর বাজার, পশ্চিম বাজার, হলমোড়, নালিতাবাড়ী যাওয়ার মোড়সহ বেশ কিছু তালের শাঁস বিক্রির দোকান বসেছে। এসব দোকানে ক্রেতা রফিক, কালাম, শফিক, আরজিনা ও খুকিসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, গরমে তালের শাঁস বেশ উপকারী। এই শাঁস খেতে বেশ মজাদার এবং খেলে শরীর ঠান্ডা হয়। তাই এই মৌসুমে তাল শাঁসের কদর বাড়ে।

থানার সামনে তালের শাঁসের দোকানি জালাল উদ্দিন ও উজ্জল জানান, বাজারে আসা অসংখ্য ফলের চেয়ে তালশাঁসের বৈশিষ্ট্য আলাদা। একটি তালে ২থেকে ৪টি বীজ বা আঁটি থাকে। পরিপক্ব হওয়ার আগে সুস্বাদু তালশাঁস তুলতুলে থাকে। মূলত তালের ভেতরে নরম তুলতুলে শাঁসই তালকোরা বা তালশাঁস বা তালের আঁটি বা তালের বীজ। এটি ঠান্ডা ও মিষ্টি জাতীয় সুস্বাদু খাবার। এই শাঁস খাওয়ায় কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকায় সব বয়স ও শ্রেণি পেশার মানুষের কাছে এটি প্রিয়। গরমের দিনে পিপাসা কাতর পথিকের তৃষ্ণা মেটাতে এই তালশাঁস গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে বলে জানান অনেক পথিক।

তালশাঁস বিক্রেতা দড়িপাড়া এলাকার উজ্জল মিয়া জানান, তারা নকলার ধনাকুশা, ছতরকোণা, ডাকাতিয়াকান্দা, গজারিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ চুক্তি তাল কিনে আনেন। গাছের মালিকদের কাছ থেকে প্রতিটি তালের পাইকারি কিনা দাম ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা। আর পরিবহণ ও গাঠ থেকে তাল পাড়ার খরচ নিয়ে প্রতিটি তালের খরচ পড়ে ৭ টাকা থেকে ৯ টাকা। সে জানায়, থানার সামনে জালাল ও উজ্জল যৌথভাবে তালর শাঁস বিক্রির দোকান দিয়েছেন। সারা দিন গরম থাকলে দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকার তালের শাঁস তারা বিক্রি করতে পারেন। এতে প্রতিদিন তাদের লাভ হয় দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। দিনের শেষে লাভের টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েও তাদের সংসার ও ছেলে মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ চলে যায়।

ধনাকুশা এলাকার তাল গাছের মালিক আশকর আলী জানান, এক মৌসুমে প্রতি গাছের তাল এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বিক্রি করা যায়। বিভিন্ন এলাকার পাইকার বা মৌসুমী ফল বিক্রেতারা এসে গাছথেকে কচি অবস্থায় তাল পেড়ে নিয়ে যান। রোপনের পরে গাছ বড় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গরু-ছাগলের হাত থেকে রক্ষা করা ছাড়া এতে কোন বাড়তি খরচ করতে হয়না। তাছাড়া তাল গাছ বর্জ্রপাতের ক্ষতি থেকে জান-মাল রক্ষা করে। তাই দেশের প্রতিটি বাড়ির আঙ্গীনায় বা রাস্তার ধারে অন্যান্য গাছের পাশাপাশি তাল বীজ রোপন করা উচিত বলে মনে করেন সুশীল সমাজের নেতাকর্মীরা।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের