টেকনাফ-সেন্টমার্টিন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে

বৈরী আবহাওয়ার কারণে দীর্ঘ ছয়মাসের বেশি বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান বলেন, সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে এতদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। বর্তমানে সাগর শান্ত ও পর্যটকদের কথা চিন্তা করে আবারো পর্যটক পারাপার শুরু হচ্ছে। আবহাওয়া ঠিক থাকলে নভেম্বরের প্রথম দিন থেকেই জাহাজ চলবে।

জানা গেছে, টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমতি নিয়ে কেয়ারি সিন্দাবাদ, কেয়ারি ক্রু অ্যান্ড ডাইন, দি আটলান্টিক ক্রুজ, এলসিটি কাজল ও এলসিটি কুতুবদিয়া জাহাজ পর্যটকদের নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। বিআইডব্লিউটিএ’র টেকনাফ অঞ্চলের পরিদর্শক (পরিবহন) মোহাম্মদ হোসেন জানিয়েছেন, জাহাজ কর্তৃপক্ষ যাতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করে এবং ভাড়ার তালিকা টাঙানোর নিদেশ দেয়া হয়েছে।

প্রতি বছর অক্টোবর কিংবা নভেম্বর থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে যান অসংখ্য পর্যটক। তারা থাকেন দ্বীপের প্রায় ১২০টি হোটেল-মোটেল ও কটেজে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহমদ বলেন, জাহাজ চলাচলের অনুমতির খবর দ্বীপে পৌঁছালে সব শ্রেণি পেশার মানুষের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে।

যেভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে টেকনাফ যাওয়া যায়। সেখান থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হয় জাহাজ ও ট্রলারে। ঢাকা থেকে টেকনাফ যায় গ্রীণ লাইন, সেন্টমার্টিন পরিবহন, এস. আলম সার্ভিস, সৌদিয়া পরিবহন ইত্যাদি। যেতে সময় লাগে প্রায় ১১-১২ ঘণ্টা। এছাড়াও ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারেন এবং সেখান থেকে লোকাল বাস বা মাইক্রো/জিপ ভাড়া করে টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিন যেতে পারেন।

টেকনাফ দমদমিয়া জেটিঘাট থেকে প্রতিদিন চার/পাঁচটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। যাওয়া-আসা ভাড়া পড়বে ৫৫০ থেকে ১২০০ টাকা। প্রতিদিন সকাল ৯ টায় টেকনাফ থেকে ছেড়ে যায় এবং সেন্টমার্টিন থেকে ফেরত আসে বিকেল ৩ টায়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের আগে অবশ্যই জেটি ঘাটে পৌঁছতে হবে নতুবা জাহাজ মিস করবেন। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে ট্রলারে করে যেতে হবে।

যেখানে থাকবেন

সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নতমানের হোটেল ও কটেজ রয়েছে। মোটামুটি মানের হোটেলের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে। নাহয় থাকার জন্য ভালো হোটেল নাও পেতে পারেন। এছাড়াও সেখানে বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। সেন্টমার্টিনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য হোটেল হলো– ব্লু মেরিন রিসোর্ট, প্রিন্স হেভেন, সীমানা পেরিয়ে, প্রাসাদ প্যারাডাইস, কোরাল ব্লু  রিসোর্ট, লাবিবা বিলাস ইত্যাদি। ভাড়া পড়বে রুম ভেদে ১৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

এছাড়াও আরো আছে প্রয়াত লেখক হুমায়ুন আহমেদের সমুদ্র বিলাস, সেইলর মুন রিসোর্ট, বিচ ক্যাম্প, হোটেল সাগর পাড়, রিয়াদ গেস্ট হাউজ, মেরিন পার্ক, হোটেল স্বপ্ন প্রবাল, শ্রাবণ বিলাস, নীল দরিয়া, পালিনি রিসোর্ট, হোটেল সৈকত ইত্যাদি।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।