You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

ঝিনাইগাতীর আনোয়ারা বিভাগীয় সফল জননী নারী

বিয়ের ১১ বছর পরেই ১৯৯১ সালে স্বামীকে হারান আনোয়ারা বেগম। এসময় সবচেয়ে ছোট সন্তান নয় মাসের কোলের শিশু, মেজোটির তিন, বড় সন্তানটি ছিল মাত্র ছয় বছর বয়সের। সন্তানের মুখের দিকে তাকালে বুকটা তার (আনোয়ারা) হাহাকার করে ওঠে। এ তিনজন সন্তান নিয়ে কীভাবে চলবেন। অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ খুঁজতে থাকেন। নিভে যেতে থাকে আশা-ভরসার সব বাতি। তবু ভেঙ্গে না পড়ে ওই ৩ সন্তান নিয়েই দুঃস্বপ্নের মতো পথচলা শুরু করেন তিনি। নিজেও জানতেন না এ পথের শেষ কোথায়। সন্তানদের মধ্যেই সমস্ত সুখের ছাঁয়া খুঁজেছেন। নিজের সুখের কথা একবারও ভাবেননি। তাই আর দ্বিতীয় বিয়েও করেননি। একটার পর একটা লড়াই করেছেন। টাকা-পয়সা সংগ্রহের লড়াই, সন্তানদের মানুষ করার লড়াই। স্বামীর মৃত্যুর পর কোন আর্থিক সঞ্চয় ছিল না তার। কেবল মাথা গুঁজার একটি ৪ শতাংশের ছোট্ট ভিটে ছিল মাত্র।

স্বামীর মৃত্যুর পূর্বেই বাবা মারা যাওয়ায় বাপের বাড়ি থেকেও সাহায্যের কোন সুযোগ ছিল না। তাই সন্তানদের পড়ালেখা করানোর জন্য টাকা-পয়সা সংগ্রহ করতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন, আঙ্গিনায় সবজি চাষ শুরু করেন। কারও সাহায্য না নিয়ে সন্তানদের শিক্ষিত করার লক্ষে বে-সরকারি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে নিজ বাড়িতে ক্ষুদ্র মুদি দোকান শুরু করেন। কিন্তু এগুলো থেকে উপার্জিত অর্থে সংসারই চলে না, কীভাবে সন্তানদের লেখাপড়া করাবেন? দৃঢ় মনোবল ও অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে জীবনের সঙ্গী করলেন। পরে মেয়েদের কাপড়, ধান কিনে চাল তৈরী করে গ্রামে গ্রামে ফেরি করে বিক্রিও করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে অগ্নিকান্ডে বসতবাড়ীসহ সব পুড়ে যায়। তবুও তিনি ভেঙ্গে পড়েননি। বাড়ি পুড়ে যাবার পর গ্রামের রাস্তা সংস্কার প্রকল্পের মাটি কেটে সন্তানদের লেখাপড়ার যোগান দেন। গল্পটি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের কবিরাজপাড়া গ্রামের মৃত সালেহ মূসার স্ত্রী ‘সফল জননী নারী’ আনোয়ারা বেগমের।

২ ছেলে, ১ মেয়ের গর্বিত জননী আনোয়ারা বেগম। বড় ছেলে মো. আলমগীর হোসাইন শিক্ষকতা ও ছোট ছেলে মো. আনোয়ার হোসাইন বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিনে এমইএস মিরপুরে (এসএই) পদে কর্মরত রয়েছেন। একমাত্র মেজো মেয়ে মারিয়াম সালওয়াকে এসএসসি পাশ ও ট্রেইলারিং শিখিয়ে চাকুরীজীবি ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার ৩ সন্তানই নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত।

প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় মানসিক শক্তির বলে এই সাহসী নারী জয়ী হয়েছেন। অনেক প্রতিবন্ধকতা, চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি একজন সফল গর্বিত জননী। আজ (২৪ অক্টোবর) বুধবার মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের আয়োজনে তিনি ‘সফল জননী নারী’ ক্যাটাগরির বিভাগীয় শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন।

এ সম্মানে ভূষিত হওয়ায় আনোয়ারা বেগম বলেন, প্রত্যেক মা’ই তাদের সন্তানদের নিঃশ্বার্থ ভাবে লালন-পালন করেন। কোন কিছু পাওয়ার স্বার্থে নয়। তবুও সরকার আমাকে যে সম্মানের যোগ্য মনে করেছে এ জন্য আমি অভিভূত ও কৃতজ্ঞ। আমি মনে করি এ সম্মান শুধু আমার একার নয়, দেশের সব মায়ের।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!