ঝিনাইগাতীতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মহসমাবেশ ও শীতবস্ত্র বিতরণ

:শাহরিয়ার মিল্টন/এম. সুরুজ্জামান:

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ২৪তম বিসিএস ফোরামের আয়োজনে শেরপুরের ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের রাংটিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন খেলার মাঠে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এক মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলাবার (১৪ জানুয়ারী) দুপুরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের প্রতিপাদ্য ছিল “ আমরা কোচ, আমরা হাজং, আমরা গারো, আমরা ডালু, আমরা বানাই, আমরা রাজবংশী, আমরা বর্মণ-আমরা সবাই বাঙ্গালী”।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেফটি নেটওয়ার্কের আওতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন মানের উন্নতি এবং তাদের সংস্কৃতিক ঐতিহ্য জানতে এ সমাবেশের আয়োজন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ওয়ান এসএম খোরশেদুল আলম।

শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ (বিপিএম-পিপিএম) স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব মারুফুর রশিদ খান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইফতেখাইরুল আলম। অনুষ্ঠানটির সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জেলা পুলিশ বিভাগ ও উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সকালে ভিন্নধর্মী এ সমাবেশ উপলক্ষে শত শত কোচ-হাজং-গারো ডালু,বানাই রাজবংশী, বর্মণ ও রবিদাস সম্প্রদায়ের সহশ্রাধিক মানুষ খেলার মাঠে এসো জড়ো হন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারসহ অন্যান্য অতিথিদের নিজ ভাষায় নেচে-গেয়ে ফুল ছিটিয়ে বরণ করে নেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫০ জন সংস্কৃতিকর্মী।

সমাবেশের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমরা আপনাদের কাছে এসেছি আপনাদের অবস্থা জানতে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কর্মযজ্ঞের গল্প শোনাতে। তিনি বলেন, কোচ, হাজং, গারো, ডালু, বানাই, রাজবংশী বর্মণ- আমরা সবাই বাঙ্গালী”। তিনি বলেন, এদেশ সকলের। এখানে সবাই সমান।

নৃ- গোষ্ঠীর সদস্য যুগল কিশোর কোচ ও চিন্তাহরণ হাজং বলেন “আমরা কোচ- হাজংরা বয়স্কভাতা নেই পাই। প্রধানমন্ত্রীর ঘর নেই পাই। (প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পাইনা) আমার খুব কষ্টে আছে।” ওগুলা চাইলে চেয়ারম্যান এবং মেম্বার গিলা আমা থাই টিকা চায়। (এসব চাইলে চেয়ারম্যান মেম্বার টাকা চায়) আমরা গরীব মান, কুয়াই টেকা পাবো। (আমরা গরীব মানুষ কোথায় টাকা পাবো)।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার ওয়ান এসএম খোরশেদুল আলম বলেন, এখানকার নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সরকারী-সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এটা সত্যিই হতাশার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন, “আমাদের কাছে সবাই সমান। আমরা সবাইকে উদারভাবে দেখতে চাই।” ৬০ হাজার কোটি টাকা সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে সরকার ব্যায় করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত ব্যায়ের পরও এখানকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ ঘর পাবে না বয়স্ক ও বিধবা ভাতা পাবে না, এটা সত্যিই দুঃখজনক। আমরা এ এলাকার মানুষের জন্য দ্রুত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা ও ঘরের ব্যবস্থা করবো। সমাবেশ শেষে ৫ শতাধিক মানুষকে শীতের কম্বল প্রদান করা হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কোচ, হাজং, গারো শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করে।

এ সময় ঝিনাইগাতী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেদুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বকর ছিদ্দিক, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি দেবাষীশ ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।