ঝিনাইগাতীতে পাহাড়ী ঢলে ক্ষতি ৬ কোটি টাকা; মারা গেছে ২জন

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে চলতি মাসে টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের বন্যায় উপজেলার চারটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ফলে ওই ইউনিয়ন গুলোর বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, সবজি নিমজ্জিত ও পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে এ পর্যন্ত সরকারী হিসাবে ৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকারও বেশি সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যার পানিতে ডুবে মামুন (১৩) ও আছিমন বেওয়া (৯৭) নামে মারা গেছে দুইজন। আজ রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের ভাষ্য অনুযায়ী ক্ষতির পরিমান দাঁড়ায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, বন্যায় সরকারি হিসাবে চরটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ২০০টি কাঁচা ঘরের ক্ষতি ১০ লাখ, ৫৫ কিলোমিটার কাঁচাসড়কের ক্ষতি ২৭ লাখ ৫০ হাজার, চারটি কাঠের সেতুর ক্ষতি ৪ লাখ, দেড় কিলোমিটার নদীর বাঁধের ক্ষতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব কিছুরই আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সিরাজুস সালেহীন জানান, বন্যায় উপজেলার ১৩০ হেক্টর আয়তনবিশিষ্ট সহস্রাধিক পুকুরের ২২৫ মেট্রিকটন মাছ ও ৫০ লাখ পোনা ভেসে গেছে। এ ছাড়া অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে খামারি ও চাষিদের চার কোটি লোকসান হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, বন্যায় ১১৩ হেক্টর জমির রোপা আমন ধানের বীজতলা ও ১২ হেক্টর জমির সবজি সম্পূর্ণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ৭৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এবারের বন্যায় এলজিইডির ১ হাজার ৫০০ মিটার গ্রামীণ সড়ক আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।