You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

ঝিনাইগাতীতে জৈব সারে শিউলির ভাগ্য বদল

এক সময় স্বামী অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করতেন। আবার মাঝে মধ্যে পাহাড় থেকে খড়ি কেটে নিজের ভ্যানে করে বাজারে বিক্রি করতেন। খুব কষ্ট করতেন, ঠিকমতো সংসার চলত না। হঠ্যাৎ একদিন বেসরকারী সংস্থা কারিতাসের কৃষি বিভাগের লোকজনদের নিকট জানতে পারলেন কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরির কথা। পরে তিনিও শুরু করলেন কেঁচো দিয়ে জৈব সার তৈরী। কিন্তু তার একটি মাত্র ছোট্র গরু থাকায় অন্যের বাড়ির গোয়াল ঘর পরিষ্কারের বিনিময়ে গোবর নিয়ে আসতেন। পরে তা ব্যবহার করতেন সার তৈরীতে। এখন তিনি স্বাবলম্বী কিষানি। তার স্বামী নওশেদ আলী এখন ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা চালান।

ওই কিষানির নাম শিউলি খাতুন (৩০)। বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া পাতার মোড় গ্রামে। এখন তার তৈরি জৈব সার ব্যবহার করা হচ্ছে জেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠে। তাকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে জৈব সার তৈরি করছেন ওই গ্রামের আরও ২৫জন নারী।

স¤প্রতি শিউলির বাড়ি গিয়ে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে নওশেদ আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামীর সম্পদ বলতে ১৫ শতক বসতবাড়ি। খ্বু কষ্টে সংসার চলত তাদের। ২০১৩ সালে তিনি বেসরকারি সংস্থা কারিতাস ও ওর্য়াল্ড ভিশন বাংলাদেশের মাধ্যমে কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরির বিষয়ে জানতে পারেন। প্রথমে কারিতাসের সহযোগিতায় এ সার তৈরির বিষয়ে তিনি তিন দিন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে বিনা মূল্যে পাওয়া ১০-১৫টি কেঁচো দিয়ে তিনি একটি রিং এ সার তৈরি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ৩টি রিং ও ২টি ইটের তৈরী হাউজে সার তৈরী করছেন। ১ মাসেই সার তৈরি হয়। প্রতি মাসে তিনি সাড়ে ৫ মণ জৈব সার পান। ৩০ টাকা কেজি দরে ওই সার বিক্রি করে প্রায় ৭ হাজার টাকার মতো আয় করেন।

কিষানি শিউলি বলেন, ‘তার স্বামী নওশেদ এখন ভ্যান বিক্রি করে একটি ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা কিনেছেন। অটোরিক্সার কেনার সিংহভাগ টাকাই জৈব সার বিক্রির উর্পাজনের টাকা। এখন তার সংসারের অভাব মোচন হয়েছে। তার এক মেয়ে ও দুই ছেলে। কেঁচো সার বিক্রির টাকায় সন্তানদের পড়া-শোনার খরচ ও তার পরিবারের সবার জামা-কাপড়সহ সংসারের বিভিন্ন সমস্যা মেটান।’

শিউলির দেখাদেখি ওই গ্রামের ২৫ জন নারী কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করেছেন। তাদরে মধ্যে কিষানি জুলেখা খাতুন ও শাহিনুর বেগম বলেন, ‘শিউলির দেখাদেখি আমরাও কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরি শুরু করেছি। সার বিক্রির টাকায় আমাদের সন্তানদের পড়া-শোনাসহ সংসারের নানা সমস্যা মেটাতে পারছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘কেঁচো থেকে জৈব সার তৈরী করে এখন শিউলি স¦াবলম্বী কিষানি। কৃষিতে জৈব সার ব্যবহারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আমরা তাকে প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। তার বাড়িতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদন প্রদশনী প্লটও করা হয়েছে।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!