You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

ঝিনাইগাতীতে কাঁচা খড় বিক্রির ধুম

বছরের এ সময়ে গরু-ছাগলের বিচরণক্ষেত্র কমে যাওয়া, শুকনো খড়ের মজুদ না থাকা এবং মাঠে ঘাস না থাকায় শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এখন গো-খাদ্য হিসেবে কাঁচা খড়ের চাহিদা অনেক। এ কারণে আগাম জাতের আমন ধান কেটে কৃষকেরা দ্রুত ধান ছাড়িয়ে কাঁচা খড় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর খড় বিক্রি করেই আবাদের খরচের প্রায় এক চতুর্থাংশ টাকা ওঠাতে পারছেন কৃষকেরা। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ফয়জুন নাহার নিপার দেয়া তথ্য মতে, এ উপজেলায় চলতি রোপা আমন মৌসুমে ১৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধান লাগানো হয়েছে।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে ওই গ্রামগুলোতে আবাদকৃত এক হাজার ৫০০ হেক্টর রোপা আমন ধান বন্যায় তলিয়ে যায়। তবে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে এক হাজার ১০ হেক্টর জমির ধান। এ পরিমাণ জমিতে ২ হাজার ৬২১ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা ৩৪ টাকা কেজি (গত বছরের মূল্য) দরে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৯১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ফলে এ গ্রামগুলোর কৃষকদের ঘরে ওই সময়ে অভাব ছিল। কারণ, তখন ঘরে ধান উঠাতে পারে নাই। কিন্তু এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা এ বছর কৃষি বিভাগের পরামর্শে আগাম ঘরে ওঠে, এমন জাতের আমন ধান চাষ করেছেন। ফলে আগের মতো বিস্তীর্ণ মাঠ ফাঁকা নেই। এ কারণে দেখা দিয়েছে ঘাসসংকট। এছাড়া মাঠে এখন ফসল লাগানোর আগে ও পরে একধরনের কীটনাশক দিয়ে আগাছা বা ঘাসের জন্ম প্রতিরোধ করা হয়। আমন ধান কৃষকের ঘরে ওঠা শুরু হবে আরও ১৫-২০ দিন পর। তাই এলাকায় গো-খাদ্য হিসেবে এ সময়ে খড়সহ ঘাসের অভাব দেখা দিয়েছে। আর আগাম আমন ধান তোলা এখন শুরু হয়ে গেছে। আগাম জাতের ধান চাষ করার ফলে গরু-ছাগলের ঘাসের চাহিদা পূরণ করছেন।

গজারীকুড়া গ্রামের কৃষক আফজাল ইসলাম জানান, আগাম জাতের ধান আবাদ করায় ঘরে নতুন ধানের ভাত খাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাজারের খড়ে চাহিদা থাকায় ধান ছাড়িয়ে কাঁচা খড়ের প্রতিটি আঁটি ১০টাকা দরে বিক্রি করছেন। আর ওই খড় বিক্রির টাকায় আবাদের খরচের প্রায় এক চতুর্থাংশ টাকা ওঠাতে পারছেন তিনি।

খড়ের কাঁচা আঁটি বিক্রেতা হায়দার জানান, বাজারের খড়ের চাহিদা থাকায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে ৬টাকা দরে পাইকারি মূল্যে আঁটি কিনে ১০টাকায় বিক্রি করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আগাম জাতের বিনা ৭, ১১, ১৬ ও হাইব্রিড ধান লাগানো হয় জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে আগস্টজুড়ে। লাগানোর ১১০ দিনের মধ্যে এই ধান কাটা যায়। আর মূল আমন ধান উঠতে সময় লাগে ১৪০ দিন। আগাম জাতের ওই ধানের চাষ করে ধান ছাড়িয়ে কাঁচা খড়ের আঁটি বিক্রি করেও কৃষকেরা অনেক লাভবান হচ্ছেন। এছাড়া এ কৃষকেরা ওই জমিতে রবিশস্য ফলিয়ে লাভবান হবেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দীপক কুমার সরকার শেরপুর টাইমসকে জানান, এ সময় ঘাসের সংকট থাকে। আমন উঠতে আরও সময় লাগবে। তাই গো-খাদ্য হিসেবে আগাম জাতের ওই ধানের কাঁচা আঁটির চাহিদা বেড়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!