জ্বরে গা মুছিয়ে দিচ্ছেন.. ঠিক হচ্ছে তো ?

জ্বরে আক্রান্ত রোগীর প্রথম চিকিৎসা শরীর মোছানো। আমরা চিরায়ত নিয়ম অনুযায়ী ঠান্ডা পানি দিয়ে রোগীর শরীর মুছিয়ে আসছি, তবে তা ভুল। প্রকৃত পক্ষে জ্বর কমানোর জন্য শরীর মোছাতে ঠান্ডা পানির পরিবর্তে কিছুটা গরম পানি ( ইংরেজীতে টেপিড ওয়াটার)ব্যবহার করতে হয়। এই গরম পানি ব্যবহার করে জ্বরের রোগীর তাপমাত্রা হ্রাস করানোর প্রক্রিয়াকে টেপিড স্পনজিং বলা হয় ।  জ্বরের তাপ হ্রাস করার ক্ষেত্রে টেপিড স্পনজিং খুব ভাল কাজ করে।
 
আসুন এবার আমরা জেনে নিই টেপিড স্পনজিং করার নিয়ম।
 
উপকরন
1)           পাঁচ টুকরো পরিস্কার সুতি কাপড়
2)          দুটি পরিস্কার পাত্র
3)          গরম পানি (কুসুম গরমের চেয়ে সামান্য বেশি)
 
প্রক্রিয়া
১.            প্রথমে পানি কিছুটা গরম করে নিতে হবে (কুসুম গরমের চেয়ে বেশি তবে হাত ডুবালে হাত পুড়ে যাবে এমন নয়)
২.            পানিতে কনুই দিয়ে দেখতে হবে উষ্ণতা অনুভবহয় কিনা।  একটি পাত্রে পানি ঢেলে নিতে হবে।
৩.           নিজের হাত ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
৪.            রোগীর দেহের তাপ মাত্রা মেপে নিতে হবে এবং তা মনে রাখতে হবে।
৫.            এক টুকরো কাপড় পানিতে ভিজিয়ে মুখমন্ডল ও ঘাড় মুছিয়ে দিতেহবে। চোখ স্পর্শকরা যাবে না। এরপর কাপড়টিকে পানি ছাড়া পাত্রে রেখে দিতে হবে।।
৬.           দ্বিতীয় টুকরো কাপড় দিয়ে এক হাতের উপরের বাইরের অংশ থেকে মুছা শুরু করে হাতের আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে হবে এবং ভেতরের অংশ মুছে উপরের দিকে আসতে হবে। অবশেষে কাপড়টি বগলে দিয়ে রাখতে হবে।
৭.            তৃতীয় টুকরো কাপড় দ্বারা অন্যহাত উপরোক্ত নিয়মে মুছতে হবে।
৮.           চতুর্থ টুকরো কাপড় দিয়ে এক পায়ের উপরের বাইরের অংশ থেকে মুছা শুরু করে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত যেতে হবে এবং ভেতরের অংশ মুছে উপরের দিকে আসতে হবে। অবশেষে কাপড়টি কুঁচকির ভাজে দিয়ে রাখতে হবে।
৯.            পঞ্চম টুকরো কাপড় দিয়ে একই নিয়মে অপর পা মোছাতে হবে।
১০.         প্রথম টুকরো টি আবার পানিতে ভিজিয়ে পেট ও পিঠ মুছে দিতে হবে।
১১.         এই প্রক্রিয়ার মাঝে পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে পুনরায় গরম পানি দিতে হবে।
১২.          এভাবে পুরো প্রক্রিয়াটি ১৫মিনিট ধরে করতে হবে (১+৩+৩+৩+৩+১+১)।এর পর তাপমাত্রা মাপতে হবে।তাপমাত্রা না কমলে আবার ১৫মিনিট ধরে এই প্রক্রিয়া করতে হবে।
১৩.        রোগীর শরীর ভালভাবে মুছিয়ে শুকনো করে নিতে হবে।
১৪.         অবশেষে পরিচর্যাকারীর হাত আবার ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
 
এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা ঝামেলাজনক মনে হলেও একটু চেষ্টা করলেই আয়ত্ব করা সম্ভব যা একজন জ্বর আক্রান্ত রোগীকে উল্লেখযোগ্য উপশম প্রদান করতে পারে।
 
আরেকটি কথা – জ্বরের ক্ষেত্রে রোগীর মাথায় অকেক্ষণ পানি ঢালাটা জরুরী নয়।  অনেক্ষণ ধরে মাথায় পানি ঢাললে তা রোগীর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।  মাথা শীতল রাখার জন্য একবার সামান্য পানি টাললেই চলে।পানি ঢালার পর মাথা অবশ্যই ভাল করে মুছিয়ে দিতে হবে।
 
আর অবশ্যই – সকলেই থার্মোমিটার ব্যবহার করে দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করা শিখুন।
 
তাহলে … আজ থেকে জ্বরের রোগীর দেহের তাপ কমাতে গা মুছাতে হবে এবং অবশ্যই গরম পানি ব্যবহার করতে হবে… ঠান্ডা পানি নয়।
 
সকলের সুস্বাস্থ্য কামনা করছি ।
 
ডাঃ আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম
এম.বি.বি.এস (সমমান)/ বি.এইচ.এম.এস (ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট)
এইচ.ই.সি (ভারত), সি-আল্ট্রা, সিডিটিএম
প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক : বাংলাদেশ মেডিকেল ইন্স. ঢাকা।
মেডিসিন সহ শতাধিক মেডিকেল পুস্তক রচয়িতা ( বাংলাদেশ ও ভারতে পঠিত )
ইমেইল: a_a_qayyum@yahoo.com
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের