You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

জহুরুল হকের কলা খেয়ে মারা যায় হানাদার বাহিনীর ২৮ সদস্য

কল্পনা হলেও অসম্ভব সত্য। বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সীর, বীর প্রতীক (বার) বিরত্বের স্মৃতি কথা। তেমনি অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বাট্রাজোড় গ্রামের কৃষকের সন্তান জহুরুল হক মুন্সী। তিনি এখন শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার পৌর শহরের পশ্চিম বাজার মহল্লার বাসিন্দা। একাত্তরের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া লাখো মুক্তি সেনাদের মধ্যে তিনি একজন। ৭১ এর ডিসেম্বর; পাক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পন করে। এতে লাখো বাঙ্গালীর রক্তে ভেজা মুক্ত হয় জামালপুর। উত্তোলিত হয় সবুজের বুকে লাল পতাকা। মুক্ত হয় হাজার হাজার বন্দি জনতা। শ্লোগানে মুখরিত হয় শহরের আঙ্গিনা।

জামালপুর পাক বাহিনীর দূর্গে আঘাত হানার পেছনে অসীম সাহসী বীরের মধ্যে অবিস্বরনীয় ভূমিকা রেখেছেন জহুরুল হক মুন্সী। ওই যুদ্ধে যারা বীর প্রতীক খেতাব পেয়েছেন তাদের একজন হলেন তিনি। একাত্তরে জহুরুল ২৬ বছরের টগবগে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা। আজ তিনি বয়সের ভারে অনেকটাই শান্ত। তবুও তার দুঃসাহসী ও রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা করতে গিয়ে আবার তেজোদীপ্ত হয়ে ওঠেন। ফিরে যান সেই অগ্নিঝরা দিনে। একের পর এক বলে যান অগ্নিঝরা দিনের না বলার স্মৃতির গৌরবময় অধ্যায়। যা আজো তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় একাত্তরের রনাঙ্গনে। জহুরুল ১১ নং সেক্টরে গোয়েন্দা গেরিলা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নারায়নগঞ্জ, গাইবান্দা, জামালপুর ও কামালপুরে পাকিস্তানীদের সাথে বহুবার সন্মুখ যুদ্ধে সাহসীর পরিচয় দিয়েছেন।

মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক মুন্সী বীর প্রতীক (বার) বলেন, ৭১-এ তিনি পান, বিড়ি, সিগারেট বিক্রেতা আবার কখনো বুট পালিশওয়ালা সেঁজে হানাদার বাহিনীর তথ্য সংগ্রহ করতেন। যে কোনো মূহুর্তে ধরা পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত। তবুও মাতৃভূমির টানে অন্তহীন ভালবাসা তাকে এগিয়ে যেতে প্রেরণা দিয়েছিল।

একাত্তরের নভেম্বর। জহুরুল বিষ মেশানো এক ঝুড়ি কলা নিয়ে গেলেন গাইবান্দা ট্রেজারিতে। সেখানে ছিল হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। কলা গুলো নিয়ে দাম না দিয়েই তাড়িয়ে দিয়েছে জহুরুলকে। সেই কলা খেয়ে ২৮ হানাদার বাহিনী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আবার জহুরুল বুট পালিশওয়ালা সেঁজে জামালপুরের কৈরোড ঢালু ক্যাম্পে যাতায়াত শুরু করেন। সেখানে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্বা লিখে আসায় পাকিস্তানি সৈন্যরা রাজাকারদের শাস্তি দিয়েছেন। জহুরুল হক জামালপুরের বকশিগঞ্জ- কামালপুর সড়কে পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। খন্ড-খন্ড সংগঠিত যুদ্ধে পাকিস্তানের শতাধিক সৈন্য নিহত হয়েছে। এসময় শ্রীবরদী ও বকশিগঞ্জের মাঝা মাঝি টিকরকান্দি গ্রামে পাকিস্তানি মেজর আইয়ুবসহ নিহত হয়েছে আরো কয়েকজন সৈন্য। তিনি জামালপুরের পাকিস্তানী সৈন্যদের ঘাটিতে প্রবেশ করেন আত্মসমপর্ণের আহবান সম্বলিত একটি পত্র নিয়ে।

এসময় পাকিস্তানী সৈন্যরা প্তি হয়ে জহুরুলকে বেদম মারপিট করে, জীপের পেছনে বেঁধে জামালপুর পিটিআই ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ঘাটির কমান্ডিং অফিসার কর্ণেল সুলতান খান সারেন্ডার লেটারের জবাবে লিখেছিল “কলমে আপনার যে দতা রয়েছে তার পরিবর্তে আপনার হাতে স্টেনগান দেখার আশা রাখি”। এই চিঠিতে দেওয়া হয়েছিল টাইম বোমা। নিশ্চত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় জহুরুল। স্বাধীনতার পর সরকার জহুরুল হক মুন্সিকে বীর প্রতীক “বার” খেতাব প্রদান করেছেন। তিনি বর্তমানে নিজ বাড়িতে তিন ছেলে এক মেয়ে নিয়ে বসবাস করছেন। যখনই যাকে কাছে পান তখনই বলতে থাকেন ৭১-এ ফেলে আসা সেই অগ্নিঝরা দিনগুলোর কথা।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!