ছয় হাজার টাকায় দেখুন সাতশ’ পাহাড় ও রক্তাভ নদী

যেদিকে তাকাবেন শুধুই পাহাড়। তাদের উচ্চতা কম, ঘন জঙ্গলে ঢাকা। সব মিলিয়ে সাতশ’ পাহাড় তো হবেই। এই বিস্তীর্ণ পাহাড়শ্রেণি ও জঙ্গলের বুক চিরে বয়ে গিয়েছে খরস্রোতা রক্তাভ কারো নদী। যা সৃষ্টি করেছে বিভিন্ন পাহাড়ের কোল থেকে নেমে আসা বিভিন্ন জলপ্রপাত। বর্ণনা শুনেই যেতে ইচ্ছে করছে? বাজেট করেই বেরিয়ে পড়ুন সারান্ডার উদ্দেশ্যে।

ঝাড়খণ্ডের পশ্চিম সিংভূম জেলা থেকে শুরু করে ওড়িশার কেওনঝাড় পর্যন্ত প্রায় ৮২০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত লৌহ আকরিকে সমৃদ্ধ লাল পাথুরে জমি, ঘন জঙ্গল, পাহাড় রাশি ও খরস্রোতা নদী মেশানো অঞ্চলটিই হল সারান্ডা ফরেস্ট। যা সাতশ’ পাহাড়ের দেশ এবং এশিয়ার বৃহত্তম শাল গাছের জঙ্গল। এই জঙ্গলে পশুপাখি অনেকই রয়েছে যেমন ভাল্লুক, লেপার্ড, হাতি। কিন্তু জঙ্গলের পরিধি ও ঘনত্ব খুব বেশি হওয়ায় তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হ‌ওয়ার সুযোগ খুবই কম।

সারান্ডায় বেশ কয়েকটি রিসোর্ট ও হোটেল রয়েছে। রিসোর্টগুলো যেখানে রয়েছে জায়গাটা বেশ খোলামেলা। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কারো নদী আর ওপারেই ঘন জঙ্গল। নদীর অনর্গল বয়ে চলার শব্দ মন ভাল করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আমরা যেই রিসোর্টে ছিলাম সেখানে ছিল প্যাকেজ সিস্টেম। ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার, সঙ্গে ৩টা সাইটসিন এবং বড়বিল স্টেশন থেকে যাতায়াত নিয়ে ৩ রাত ৪ দিনের মাথাপিছু খরচ মাত্র ৬ হাজার টাকা। গ্রুপে ৬-৭ জন থাকলে সেটা কিছুটা কমও পড়তে পারে।

সারান্ডা ফরেস্ট

সারান্ডা ফরেস্ট

সারান্ডা ঘোরার সেরা সময়ে এখনই। আরেকটু ভালো ভাবে বললে, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। পাহাড়ি জায়গা বলে গরমকালে প্রচণ্ড গরম পড়ে এবং বর্ষাকালে কারো নদী হয়ে ওঠে ভয়ংকর। অন্য দিকে, শীতের রাতে বেশ ঠাণ্ডা লাগে। তাপমাত্রা থাকে ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি। আগুনের সামনে বসে বার্বি-কিউ খেতে খেতে এই সময়ের আবহাওয়াটা বেশ উপভোগ্য।

কীভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে ‘হাওড়া-বড়বিল জনশতাব্দী এক্সপ্রেসে’ বড়বিল স্টেশন। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সারান্ডায়। রিসোর্ট বুকিং দিয়ে রাখলে তারাই নিয়ে যাবে আপনাকে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।