ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ঝিনাইগাতীর ছোট গজনী ও রাংটিয়া গ্রাম

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ছোট গজনী ও রাংটিয়া গ্রামে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে এবং ব্যাপক শিলাবৃষ্টির কারণে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাঠের বাগান, গাছপালাসহ কৃষকের কষ্টার্জিত বোরো ফসলের মাঠ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ভোরে এবং ৫ এপ্রিল দুপুরে আকস্মিক ভাবে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এবং সেই সাথে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টির কারণে ছোট গজনী, নয়া রাংটিয়া ও রাংটিয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ী মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এ গ্রামগুলোতে এমন কোন ঘর নেই, যে ঘরের টিনের চালে ছিদ্র হয়নি। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ছোট গজনী গ্রামের ২২টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে জুলিয়া সাংমার ৩টি, ডামেন সাংমার ২টি, জিরামনি সাংমার ১টি, ওয়াশিংটনের ১টি ঘরের সম্পূর্ণ চাল সহ ২২টি পরিবারের ঘরের চাল আংশিক উড়িয়ে নিয়ে গেছে।

রমলা মারাকের গাছের বাগান পুরোটাই তছনছ হয়ে গেছে। অপরদিকে নয়া রাংটিয়া ও রাংটিয়া গ্রামের মিছিরন বেগম, মির্জা, দুদু মিয়া, শিউলী বেগম, বাহেন কোচ, আলী হোসেন, শুক্লা কোচ, সিন্দুমণি কোচ, বিষমান কোচ, আঃ হাকিম, ফজিলা বেগম, হুরমুজ, ইয়াছিন, সিদ্দিক, পেসেন, চেংমহন কোচ, মুসলে উদ্দিন, ইসাহাক, বারেক, হাছেন আলী, আহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আলীসহ প্রায় ৩০টি পরিবারের বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয় এবং ক্ষেতে রোপিত বোরো ফসলসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। সীমান্তবাসীরা এমনিতেই বিভিন্ন দূর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে দিনাতিপাত করে আসছে, এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে সব যেন তছনছ করে দিয়ে তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দিয়েছে।

কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক, নলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা ও ট্রইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খক্সীসহ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ বাসিন্দারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করছেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব একেএম ফজলুল হক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.জেড.এম শরীফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে সহযোগীতার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের