You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

কে হবে ২০১৮ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন

রইলো বাকি এক। রাশিয়া বিশ্বকাপে এবার নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দেখার অপেক্ষা। ফ্রান্স নাকি ক্রোয়েশিয়া? এবার সাতটি মহাদেশের মধ্যে ছয়টি মহাদেশের দেশগুলোরই আনন্দের চেয়ে কান্নার পাল্লাই ছিল ভারি। ২০১৮ বিশ্বকাপের এ মহরণে অংশগ্রহণকারী ৩২ দেশের মাঝে ইউরোপের চারটি দেশকে বিজয় উৎসবে (ফ্রান্স, ক্রোয়েশিয়া, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম) মেতে উঠতে দেখা গেছে বেশি।

এদের মধ্যে বিশ্বকাপ মানে চুলচেরা বিশ্লেষণ, ইতিহাসের পাতা উল্টে বের করা পরিসংখ্যান নিয়ে কাটাছেঁড়া আর সেই সঙ্গে কুসংস্কার। ব্যতিক্রম নয় এবারের বিশ্বকাপও। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নানা রকমের কুসংস্কার আর বিভিন্ন রকমের সংখ্যাতত্ত্ব আর বিভিন্ন রকমের যুক্তি নিয়ে হাজির হচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের শেষ পর্যায়ে এসেও খামতি নেই তার।

ফাইনালে কোন দুটি দল খেলবে তা নির্ধারিত হওয়ার পরই ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ দাবি করছে এবারে চ্যাম্পিয়ন হবে ক্রোয়েশিয়া। সেবারের ফাইনালে সাম্বার ছেলেরা হারিয়েছিল সুইডেনকে। চলে আসুন ২০ বছর পর, অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে। সেবার প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ফাইনালে নীল-সাদা ব্রিগেড হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডসকে। চলে আসা যাক আরও ২০ বছর পরে ১৯৯৮’ সালে। জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স স্বপ্নভঙ্গ করেছিল ব্রাজিলের। তার ঠিক ২০ বছর পর সেই ফ্রান্সেরই মুখোমুখি হচ্ছে ক্রোয়েশিয়া।

এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পেরেছিল না ক্রোটরা। এবারই নিজেদের ইতিহাসের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে মডরিচরা। গত ৬০ বছরের এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে এবারেও নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে পারে ক্রোয়েশিয়া।কিন্তু নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ফ্রান্সই বা ছাড়বে কেন? তারা আবার দিচ্ছেন অন্য যুক্তি। ফ্রান্সের সমর্থকরা বলছে না ক্রোয়েশিয়া নয় এবারেও চ্যাম্পিয়ন হবে ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে এই ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে সহজেই জিতেছিল ফ্রান্স। এবারেও নাকি সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে।

তাছাড়া খেলোয়াড় এবং কোচ দুই হিসেবেই বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য নজির গড়তে মরিয়া দিদিয়ের দেশঁ-ও। এর আগে এই নজির গড়েছেন মোটে দু’জন। মারিও জাগালো এবং ফ্রান্স বেকেনবাওয়ার। তাছাড়া এবারের বিশ্বকাপে কোনো যুক্তিই যেন খাটছে না। তাই আগে থেকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করাটা বোধ হয় যুক্তিযুক্ত হবে না।ফাইনালে ফ্রান্স-ক্রোয়েশিয়া দু’দলেরই সম্ভাবনা আছে। ফ্রান্সের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে চিহ্নিতও হচ্ছিলেন গ্রিজম্যান, এমবাপেরা। তুলনায় ক্রোয়েশিয়ার ফাইনালে ওঠা অবাক করার মতো। এবারই প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে তারা।

ফ্রান্সের অবশ্য বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস রয়েছে। কুড়ি বছর আগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ফের জিতলে দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হবে ফরাসিরা। ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এ বারের ফাইনালে ওঠাই সেরা সাফল্য। নতুন ইতিহাস লিখেই ফেলেছে তারা। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তা রূপকথার মতোই লাগবে।দুই দলেই আছেন বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তারকা। ফ্রান্সে যেমন পল পোগবা, এন’গোলো কান্তে, মাতুইদিরা রয়েছেন মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে। ক্রোয়েশিয়ার তেমনই রয়েছেন লুকা মদরিচ, ইভান রাকিতিচরা।

ফ্রান্স সামনে রাখছে জিহুকে, ক্রোয়েশিয়া মাঞ্জুকিচকে। ফ্রান্স অবশ্য গোলের জন্য কোনো একজনের ওপর নির্ভর করছে না। রক্ষণের ফুটবলাররাও গোল করে যাচ্ছেন। দুই দলের গোলরক্ষকই নির্ভরযোগ্য। ফ্রান্সের লরিস, ক্রোয়েশিয়ার সুবাসিচ।ফ্রান্স শুরুতে তেমন নজর কাড়েনি। ধীরে ধীরে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছে তারা। ক্রমশ ছন্দবদ্ধ দেখাচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া গ্রুপের সব ম্যাচ জিতেছিল। কিন্তু, তার পর এগিয়েছে হোঁচট খেতে খেতে। দুইবার জয় এসেছে টাইব্রেকারে। সেমিফাইনালে জয় এসেছে অতিরিক্ত সময়ে।

পরিসংখ্যান বলছে মোট পাঁচ দেখায় তিনবার জিতেছে ফ্রান্স, দু’বার জিতেছে ক্রোয়েশিয়া। বিশ্বকাপে একবারের দেখায় জয়ী ফ্রান্সই। ক্রোয়েশিয়া কি এই পরিসংখ্যানেও সমতা ফেরাতে পারবে?

সূত্র: ইনিউজ

(শে/টা/বা/জু)

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!