করের শরবিদ্ধ মধ্যবিত্ত: এ জীবন নির্বাহ হবে কীভাবে?

চলতি অর্থবছরে কর কাঠামো এমনভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে যে, এর বেশিরভাগ ভার পড়েছে মধ্যবিত্ত ও চাকরিজীবীদের ওপর। জীবনধারণের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বোঝা বইতে হবে তাদের।

এক কেজি চিনিতে ধনী-গরিব নির্বিশেষে আগে যেখানে ট্যাক্স-ভ্যাট মিলিয়ে ১৪ টাকা দিতে হতো, এখন সেখানে দিতে হবে ২৩ টাকা। এক লিটার ভোজ্যতেলে সাড়ে ৯ টাকার পরিবর্তে এখন দিতে হবে সাড়ে ১৬ টাকা।

অনেক মধ্যবিত্তের আয়ের বড় অংশই আসে সঞ্চয়পত্র থেকে। এবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় উল্লিখিত শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিরা কীভাবে জীবনযাত্রায় ব্যয় মেটাবে তা ভেবে দিশেহারা। যাদের আয়ের একমাত্র উৎস সঞ্চয়পত্র তারা কতটা চিন্তিত তা সহজেই অনুমান করা যায়।

যারা সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে নিজের বাড়ি নির্র্মাণের স্বপ্ন দেখে এসেছে, রড ও সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির কারণে তাদের অনেকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে কিনা, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ফোন ছাড়া জীবনের একটি মুহূর্তের কথা কল্পনাও করা যায় না।

এই নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাটি গ্রহণ করতে আগে ১০০ টাকায় সব মিলিয়ে কর দিতে হতো ২২ টাকা, এখন এই সেবা পেতে সব মিলিয়ে কর দিতে হবে ২৭ টাকা। এখন পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের কাছেই একটি করে মোবাইল ফোন রয়েছে।

ফলে কেবল এ খাতেই বছরে অতিরিক্ত অনেক টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া জীবন ধারণের প্রতিটি ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি,এটিও এক বড় সমস্যা।

সঠিকভাবে করজাল বিস্তৃত করতে না পারার কারণে নির্দিষ্ট কিছু খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ করতে হচ্ছে। ভোক্তা যে ভ্যাট প্রদান করছেন তা ঠিকমতো সরকারি কোষাগারে যাচ্ছে কিনা এটাও এক বড় প্রশ্ন।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বিভিন্ন বোঝা বইতে নিম্ন-মধ্যবিত্তের যত কষ্টই হোক; সব বোঝা বইবার পর স্বাভাবিকভাবে একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার কাছে কিছু সেবা আশা করে। কিন্তু বাস্তবতা হল সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় প্রত্যাশিত সেবা সময়মতো পাওয়া যায় না।

পেশাগত কারণে এখন প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে হয়। একজন নিম্ন-মধ্যবিত্তের কর্মজীবী সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে বর্তমানে অ্যাপভিত্তিক রাইড বেছে নিতে বাধ্য হয়। অথচ গণপরিবহনে ন্যূনতম শৃঙ্খলা থাকলে এই বাড়তি খরচ হতো না।

বর্তমানে বেসরকারি খাতের চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক নিম্ন-মধ্যবিত্ত নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত অতীতে যেমন বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে, আগামীতেও যাতে তেমন অবদান রাখতে পারে, সে জন্য তারা সবসময়ই প্রস্তুত থাকে।

কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে হিমশিম খেলে তারা সেই দায়িত্ব পালন করবে কীভাবে?

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।