এ চোখের জলের দায় কার?

মা জানো, কাঁদতে পাচ্ছি না। বার বার তোমার কথা মনে পড়ছে কিন্তু কাদঁতে পারছি না। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। আগুনের কালো ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা নিভছেই না চোখের জলে। কি করব মা? মা তোমায় ছেড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে এসে অসহ্য যন্ত্রণাও সহ্য করছি। অথচ অঙ্গার হয়ে ফিরব তোমার কোলে। জানি মা তুমি সহ্য করতে পারবে না এ কষ্ট। তোমার চোখের জলে নিভিয়ে দিতে পারবে না মা, মানুষ্য সৃ্ষ্ট দুর্ঘটনা গুলোকে। মা মা মা…।

কান্নার জল আর কতটুকু হলে নিভানো যাবে আগুনের লেলিহান? এভাবে আর কত দিন? সহ্যেরও একটা সীমা থাকে। প্রতিনিয়ত আগুন লাগছে। গঠিত হচ্ছে তদন্ত কমিটি অথচ সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশিষ্টরা। সব কিছু দৃষ্টির সীমানায়। অথচ কেউ দেখছেন না। কোন কর্তৃপক্ষ নেই? নেই কোন আইন, আশ্চর্য!

আগুনে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধার করার সরকারী সংস্থা দফতর অধিদফতর আছে। তবে সক্ষমতা নেই। বাঁচার আকুতি নিয়ে চিৎকার করছে বনানীর এফ আর টাওয়ারে আগুনের দুর্ঘটনার শিকার মানুষ। দেখছে কোটি চোখ, ফেলেছে চোখের জল, অহারে, বাঁচতে পারছে না। মানুষ হয়ে মানুষের করুণ মৃত্যু দেখতে হচ্ছে। এভাবে জীবিতদের বুকেও জমা হচ্ছে সহস্র ক্ষত। ক্ষত নিয়ে, ব্যর্থতা নিয়ে আর কত বেঁচে থাকা?

প্রতিনিয়ত দেশে ঘটে যাওয়া তথাকথিত দুর্ঘটনা গুলিকে কখনোই দুর্ঘটনা বলে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। প্রতিটি দুর্ঘটনাই ঘটছে কারও না কারও অবহেলা ও লোভের কারণে। তাই কারও অবহেলা বা লোভের কারণে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাকে কি কোন ভাবেই দুর্ঘটনা বলে আখ্যায়িত করা যায়? তারপরও পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এগুলোকে দুর্ঘটনা বলে চাপিয়ে দেয়া হয়। আমরা মানতে বাধ্য হই, অথচ এগুলো মনুষ্য সৃষ্ট হত্যাকান্ড। তবে হয়ে যাচ্ছে দুর্ঘটনা। এ দুর্ঘটনার শেষ কোথায়? তবে ভাল দিক হল গণপূর্তমন্ত্রী ও উত্তরের মেয়র এফ আর টাওয়ারে আগুনকে দুর্ঘটনা না বলে হত্যাকান্ড এবং এখন অ্যাকশন নেয়ার সময় হয়েছে বলে দৃঢ় কণ্ঠে জানান দিয়েছেন তারা।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টার ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই ফের বানীতে চলে গেল ২৫ জনের প্রাণ। তার একদিন যেতে না যেতেই শনিবার (৩০ মার্চ ) গুলশানে এনডিসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। চোখের সামনে মানুষগুলো পুড়ে অঙ্গার হয়েছে আর আছড়ে পড়ে কাঁদে সেই পরিবারে দীর্ঘ দিনের লালিত টুকরো টুকরো স্বপ্ন। সর্বশেষ এনডিসিসি মার্কেট, ওয়াহেদ ম্যানসন ও এফআর টাওয়ারের ভেতরে আগুনে পুড়ে গেছে অনেক জীবনের গল্প।

বনানী অগ্নিকাণ্ডে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা রুমকি হয়তো তার অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে আনার জন্যই বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন। তবে বাঁচতে পারেননি তিনি। তার সন্তানও জন্মের আগেই মৃত্যুকে করেছে আলিঙ্গন। একই আগুনে পুড়ে মরেছে তার স্বামী মাকসুদ! নব দম্পতির সব স্বপ্ন সাধ পুড়ে গেছে আগুনের লেলিহান শিখায়। এভাবে ২৫ জনের পরিবারেই নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা।

কারা এর জন্য দায়ী? নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য একজন অভিজ্ঞ প্রকৌশলীর পরামর্শ নিয়ে ভবনের ধরন অনুযায়ী বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ কাজ করতে হয়। এফআর টাওয়ারের বেলায় সেটি করা হয়েছিল কি? এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে নিশ্চিত যে, কিছুই তার করা হয়নি। এ দায় নেবে কে? এ প্রশ্নে উত্তর কার কাছে?

সম্পাদনা: এম. সুরুজ্জামান, বার্তা সম্পাদক, শেরপুর টাইমস ডটকম।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের