You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

এবার ঈদে নারীর চাই শাড়ি

নাঈম ইসলাম: আঁচলের ডিজাইনটা ভাল,পাড়ের কাজটা আরেকটু ভারী হলে ভালো হত। জমিনটা গোলাপি রঙের হবে। আরো কয়েক টা দেখান। এই হলো ঈদ বাজারের শাড়ি ক্রেতাদের অবস্থা।

ঈদে চাই নতুন শাড়ি। পোশাক হিসেবে শাড়ির যে নান্দনিকতা আছে, তা অন্য কোন পোশাকে নেই। ফ্যাশনে যতই পরিবর্তন আসুক, শাড়ির আবেদনে কোন কমতি নেই। শাড়িই নারীকে করে তুলে সৌন্দর্যে অনন্য, এনে দেয় আভিজাত্য লুক। ঈদে নিজেকে আর্কষণীয় ও জমকালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে নারীর আস্থা শাড়িতে । তাই ঈদকে সামনে রেখে বাঙালী ললনারা শহরের বিভিন্ন শাড়ির দোকানে খুঁজছেন সবচেয়ে মানানসই আর নান্দনিক শাড়িটি। ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে বিপণী বিতানগুলোও প্রস্তুত হয়েছে বাহারি সব ডিজাইনের শাড়ি নিয়ে।

বিপণী বিতানগুলো এবার ঈদে উৎসবের রঙের পাশাপাশি প্রধান্য দিয়েছে বর্ষার থিমকেও। এবারের শাড়িতে নকশায় আনা হয়েছে ট্য্রাডিশনাল সব মোটিফ। বর্ষার মৌসুমকে প্রধান্য দিয়ে রঙ আর নকশায় আসছে বৈচিত্র।

গরম ও বর্ষার বিবেচনায় উৎসবের আমেজে শাড়ির জমিনে মোটিফ হিসেবে থাকছে প্রকৃতিক ফুল আর লতাপাতার ছোঁয়া। রঙিন বর্ণিলছটা সূতা, পাথর, চুমকি দিয়ে এমবয়্রডারি ও কারচুপি হাতের নিপূন কারুকাজ করা হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে বিতানগুলোতে থাকছে দেশি-বিদেশি শাড়ির বিপুল সমাহার। দেশিয় শাড়ির মধ্যে রয়েছেজড়ির কাজের কাতান, জর্জেট, বেনারশি, তসরের পাশাপাশি হালকা ধাচের সুতি, শিফনও। ফ্যাশনে ভিন্নতা আনতে শাড়ির জমিন ও কুঁচিতে দুই রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। কুঁচির প্রিন্টের সাথে মিলিয়ে ব্লাউজ পিস করা হয়েছে।

শো-রুম গুলোতে পাওয়া যাচ্ছে স্বর্ণ কাতান, চেন্নাই কাতান, ভেলভেট কাতান, জুট কাতান, ফুলকলি কাতান, পিওর কাতান, তসর কাতান, অপেরা কাতান, বেনারশি জর্জেট, মসলিন, ধুপিয়ান, জামদানি সহ বিভিন্ন শাড়ি।

নয়ানী বাজারে বিভিন্ন বিপণীতে ক্রেতারা ঢুঁ মারছে পছন্দের ঐতিহ্যবাহী টাঙাইলের তাঁত, জুট কটন, সিল্ক, হাফ সিল্ক, পিওর সিল্ক আর বিভিন্ন সূতি শাড়িতে।

নিউমার্কেটের বিভিন্ন শো-রুমের বিক্রেতা ও ক্রেতাদেও সাথে কথা বলে জানা গেল, এই ঈদে ভিন্ন ধাচের কিছু খুঁজছেন ক্রেতারা। তবে চাহিদা বেশি ট্র্যাডিশনাল কাতান শাড়ির দিকে। আর মসলিনে এমব্রয়ডারি হাফসিল্ক হাতের কাজসহ এক্সক্লুসিভ শাড়িও পছন্দ করছেন।

অনন্যা বুটিকের সত্ত্বাধিকারী আইরিন সুলতানা জানিয়েছেন, এবার ঈদটা যেহেতু বর্ষায় হচ্ছে তাই শাড়ির রঙে রেখেছেন বর্ষার ছোঁয়া। উৎসবের দিনগুলোতে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে, এ বিবেচনায় শাড়ির জন্য বেছে নিয়েছে উজ্জল রঙকে। এর মধ্যে লাল, সবুজ, মেজেন্টা, পিকক ব্লু আর আসমানীর প্রধান্য বেশি । আমাদের এখানে পনেরশ থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকার শাড়ি আছে।

শেরপুর পৌর মহল্লার বাসিন্দা সাদিয়া জাহান তনু। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমি অনন্যা বুটিক থেকে ১৪হাজার টাকা দিয়ে মুসলিন শাড়ি কিনেছি। কাপড়ের মান খুবই ভালো তাই এই দোকান থেকেই কিনলাম।

বেচাকেনা এখনো জমে না ওঠায় হতাশ অনেক বিক্রেতা। ভ্যাপসা গরম, বৃষ্টি, মাসের শেষ আর অলিতে গলিতে দোকানের ছড়াছড়ি- এসব কিছুকেই দায়ী করছেন তারা। ১৫ রোজার পরে ক্রেতার সংখ্যা বাড়বে বলে বিক্রয়কর্মীদের আশা।

শাড়ির প্রতি নারীর আর্কষন যেকোন উৎসবে একটু বোশিই। আর এবার বাহারি সব শাড়ি নিয়ে জমজমাট হতে যাচ্ছে ঈদ আনন্দ। এখন শুধু অপেক্ষা, বাজার ঘুরে রুচির সাথে সমন্বয় করে নিজের পছন্দের শাড়িটি বুঝিয়ে নেওয়ার।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!