এক দিনে ঘুরুন বিরিশিরি-সোমেশ্বরী

প্রথম দেখাতেই বেশিরভাগ পর্যটক সোমেশ্বরী নদীর প্রেমে পড়ে যান। নদীর একপাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পাহাড়। পুরো পাহাড়াই সবুজের চাদরে মাখা। স্বচ্ছ পানির এই নদীতে পাহাড় যেন আয়না দেখছে। নদীর দু’পাড়ে ছোট একটি বালুচর। মাঝখানে কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও পানি একদমই নেই। নদীর পানির রঙ অনেকটা নীল। ঠিক নীল বললে ভুল হবে, আকাশের নীলের সঙ্গে মিলেছে বলে পানির রং এমন মনে হয়। সব মিলিয়ে মনে হবে ঝকঝকে একটি ছবি।

রিকশাসহ খেয়া নৌকায় সোমেশ্বরী পার হয়ে আসি তিরিবাজার। তারপর চলতে শুরু করি বিজয়পুর চীনা মাটির পাহাড়ের উদ্দেশে। অধিকাংশ পথ রিকশা চলাচলের উপযোগী নয়। তাই সোমেশ্বরীর পাড় ধরে কখনো হেঁটে, কখনো রিকশায় যেতে হয়। আধাঘণ্টা পর চলে আসি কুল্লাগড়া মন্দির। মন্দিরটির নান্দনিক কারুকার্য দৃষ্টি কাড়ে। মন্দিরের সৌন্দর্য দেখে এই পথের কষ্ট খানিকটা হলে লাঘব হবে! এর পর আরেকটু খাটুনি করলেই পৌঁছে যাবেন বিরিশিরি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিরিশিরি। এখানে রয়েছে প্রকৃতির ঢেলে দেয়া অপার সৌন্দর্য। অনেকে জায়গাটিকে সাদা মাটির দেশও বলে থাকেন। নদী, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা বিরিশিরিতে রয়েছে অনেক কিছু। ‘বালুয়া বালশিরিরি’ একটি গারো শব্দ। শব্দটি থেকে মূলত বিরিশিরি নামের উৎপত্তি। তবে অনেকেই বীরের শির থেকে বিরিশিরি নামের উৎপত্তি হয়েছে বলে মনে করেন।

সোমেশ্বরী নদী

সোমেশ্বরী নদী

কংশ ও সোমেশ্বরী নদী ঘেরা বিরিশিরির মূল আকর্ষণ বিজয়পুর চীনামাটির খনি, রানীখং গির্জা, কমলা রানীর দীঘি। ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গারো পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনপদ বিরিশিরি, প্রকৃতি প্রেমীদের চোখ জুড়িয়ে দেবে নিমিষেই। গারোদের দেশে পা ফেলতেই যে কারো মন প্রফুল্ল হয়ে উঠবে। কবি হয়ে কেউ লিখে ফেলবেন কবিতা, কেউবা গলা ছেড়ে গাইবেন গান। আর যারা প্রকৃতির এই বিপুল সৌন্দর্যের এক মুঠো সন্দেশ হিসেবে নিতে চান তারা যে সেলফি আর স্ন্যাপচ্যাটে মগ্ন হয়ে যাবেন-এতে কোনো সন্দেহ নেই।

রাজধানী থেকে যেতে চাইলে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড হয়ে ময়মনসিংহের বাসে উঠতে হবে। ট্রেনেও যেতে পারেন। এরপর ময়মনসিংহ-নেত্রকোনার রাস্তা ধরে শ্যামগঞ্জ মোড়ে এসে নামতে হবে। এখান থেকে পূর্বধলা সড়ক দিয়ে দূর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি কালচারাল একাডেমিতে এসে উঠবেন। আগে থেকে যোগাযোগ করে এলে সস্তায় ভালোভাবে রাত কাটাতে পারবেন এখানে। সেখান থেকেই উপভোগ করতে পারবেন বিরিশিরি সংলগ্ন সোমেশ্বরী নদী, পাহাড় ও আশেপাশের এলাকার সৌন্দর্য।

এছাড়াও পর্যটকরা দূর্গাপুর উপজেলা ঘুরে উপভোগ করতে পারবেন। কমলা রাণীর দীঘি, গারো পাহাড়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক একাডেমি, সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বাড়ি, টংক আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ, সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রাশিমণি স্মৃতিসৌধ, বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও নীল পানির লেক দেখে মন ভালো হয়ে যাবে নিমিষেই।

গারো পাহাড়ের পাদদেশের এই উপজেলায় আদিবাসীদের সংখ্যা বেশি। বাঙালিদের পাশাপাশি তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে বহুকাল ধরে। এই আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে স্থাপিত হয় ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক একাডেমি। যেখানে তারা তাদের সংস্কৃতি চর্চা করে। তাদের সংস্কৃতি চর্চা আনন্দ দেয় এখানে আসা পর্যটকদের।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।