You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

অনন্য জেলা প্রশাসকে অনন্য শেরপুর

আবদুর রহমান রানা : সেই ছোট বেলা থেকেই সুযোগ পেলে টুকটাক লিখি। চাকুরী পাওয়ার পর থেকে লেখালেখিটা আসলে হয়ে উঠেনি। আজ অনেকদিন পর লিখতে বসলাম। এমন একজনকে কেন্দ্র করে আজ লিখতে বসেছি তিনি হলেন আমাদের শেরপুর জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যার। ২০১৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক হিসেবে স্যার যোগদান করেন। তিঁনি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৫ তম ব্যাচের একজন চৌকস কর্মকর্তা।

স্যার শেরপুর জেলায় যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই শেরপুর জেলা প্রশাসনের আওতাধীন বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। স্যারের অসীম দক্ষতা, যুগপযোগী সিদ্ধান্ত এবং ক্রিয়েটিভ চিন্তাধারার ফলশ্রুতিতে প্রতিটি কাজে এসেছে বৈচিত্রতা। একজন জেলা প্রশাসক আন্তরিক হলে কিভাবে জেলার চিত্র পাল্টে যেতে পারে ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যার তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

একজন জেলা প্রশাসক একটি জেলার কর্ণধার; জেলার অভিভাবক। একজন জেলা প্রশাসককে প্রতিদিন অক্লান্তভাবে প্রশাসনিক গুরুত্বপুর্ণ সরকারী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সেবামূলক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। স্যার জেলা প্রশাসক হিসেবে যেদিন থেকে শেরপুর জেলায় দায়িত্ব নিয়েছেন হাজারো ব্যস্ততার মাঝেও সেদিন থেকেই তিনি শেরপুরকে নিয়ে সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনা শুরু করেন।

স্যারের ভিশন ও মিশন : “আমাদের শেরপুর অন্যন্য শেরপুর, সেবায় গড়ি প্রশাসন ” এই ভিশন ও মিশনকে সামনে রেখে স্যারের শেরপুর নিয়ে পথা চলা শুরু হয়। অল্পকিছুদিনের মাঝেই স্যারের উন্নয়নমূলক, সেবামূলক ও ক্রিয়েটিভ কাজগুলো সাধারণের মাঝে দৃশ্যমান হতে শুরু করে। স্যার শেরপুর জেলায় যোগদান করেছেন সদ্যই এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

মাত্র এক বছর একজন জেলা প্রশাসক মহোদয় ও তার কাজকে মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট সময় না বলেই মনে করি। তবে এই অতি অল্পসময়ের মাঝেই স্যারের সুনিপুণ স্পর্শে শেরপুর জেলা সত্যিই অনন্য হয়ে উঠতে শুরু করেছে। স্যারের কিছু অনন্য কাজের কথা পাঠকের সামনে তুলে ধরার লোভ সামলাতে পারছিনা :

স্যারের ক্রিয়েটিভ নির্দেশনা ও পরামর্শে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বাসভবন (বাংলো) প্রাঙ্গণ দৃষ্টিনন্দনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলমান। স্যারের সুদূরপ্রসারী ও সুনিপুণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এবছর বৃক্ষ মেলা এবং উন্নয়ন মেলা নবঘোষিত “ডিসি উদ্যান” এ আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত মেলায় দর্শনার্থীদের উপচে ভরা ভীড় পরিলক্ষিত হয়। ডিসি উদ্যানে মেলার আয়োজন সর্বমহলে ব্যপকভাবে প্রশংসিত হয়। কালেক্টরেট মসজিদ আধুনিকায়ন ও দৃষ্টিনন্দন করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অফিস কক্ষ শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দনভাবে তৈরী করা হয়েছে।

দাপ্তরিক কাজে গতি আনতে জেলা প্রশাসক মহোদয় এই অল্প সময়েই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আইসিটিতে দক্ষ করা ও নিরবিচ্ছিন প্রশিক্ষণ গ্রহনের স্বার্থে “তুলসীমালা ট্্েরনিং কাম কম্পিউটার ল্যাব” নামে ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করেছেন। ট্রেনিং সেন্টারটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সমৃদ্ধ করার কাজ চলমান। “জেলা প্রশাসনের নাগরিক সেবা কেন্দ্র” ময়মনসিংহ বিভাগের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় কর্তৃক সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে। নাগরিক সেবা কেন্দ্র থেকে যাতে জনগণ সঠিক সেবা পায় তার জন্য আপোষহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন স্যার।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বিশুদ্ধ পানি পানের জন্য বেশ কয়েকটি আধুনিক পানির ফিল্টার স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও নির্বিঘেœ কাজের স্বার্থে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মচারীদের মাঝে পরিচয় পত্র বিতরণ করা হয়েছে। ইনোভেটিভ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের আওতাধীন অফিসসমূহে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাঝে কর্পোরেট সিম বিতরণ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সমগ্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয় আজ ওয়াইফাই জোনে পরিণত হয়েছে যার ফলশ্রুতিতে দাপ্তরিক কাজে গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও কার্যালয় প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা এবং ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল হাজিরা গ্রহণের কাজও দ্রুত গতিতে চলমান। কালেক্টরেট চত্বরে সোলার প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে স্যারের অবদান : শেরপুর জেলায় মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সময়ের দাবী। সেই দাবীকে স্যার উপেক্ষা করতে পারেননি। স্যারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে “কালেক্টরেট ইনোভেটিভ স্কুল (ঈওঝ)”। সরাসরি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ স্বুলে জেলার অন্যান্য স্কুলের তুলনায় অনেক কম বেতনে মানসম্মত ও যুগপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলটির সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির জন্য স্যার রাত দিন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

পর্যটন নিয়ে স্যারের পরিকল্পনা :  “পর্যটনের আনন্দে, তুলশীমালার সুগন্ধে” শেরপুর জেলা ব্র্যান্ডিং স্লোগানকে সামনে রেখে চলছে শেরপুরকে জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করার কাজ। শেরপুর জেলার পর্যটনের প্রধান আকর্ষণ গজনী অবকাশ কেন্দ্র জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সুনিপুণ পরিকল্পনায় নতুন সাজে সেজেছে। গজনীর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগে পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে জেলা প্রশাসক মহোদয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। যার ফলশ্রুতিতে এ মৌসুমেই পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতি সম্প্রতি ময়মনসিংহ বিভাগের মাননীয় বিভাগীয় কমিশনার মহোদয় কর্তৃক গজনী অবকাশ কেন্দ্রের অন্যতম আকর্ষণীয় স্পট নব নির্মিত “আলোকের ঝর্ণাধারা” নামক ঝর্ণার উদ্বোধন করা হয়। যা গজনীর সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন আঙ্গিকে গজনীকে সাজানোর কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুত গতিতে। জেলা ব্র্যান্ডিং স্লোগানকে স্বার্থক ও শেরপুরকে পর্যটনসমৃদ্ধ জেলা হিসেবে দেশ বিদেশে পরিচিত করতে স্যার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

মানবতায় জেলা প্রশাসক : স্যারের মহানুভবতা আজ সর্বজনবিদিত। ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যার হলেন এমন একজন জেলা প্রশাসক যিনি কিনা সরকারী হাজারো কাজের ভিড়েও সামান্য অবসরে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেষ্টা করেন মানব সেবায়। তাইতো স্যার নববর্ষ পালনে ছুটে যান এতিমখানায়। অসহায় এতিমদের নিয়ে নববর্ষ পালন করেন, নিজে উপস্থিত থেকে কেক কেটে এতিমদের জন্মদিন পালন করেন। দূর দূরান্তে গিয়ে অসহায় শীতার্দদের হাতে শীত বস্ত্র তুলে দেন। দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজ অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিকভাবে শিক্ষা সহায়তা করেন । এমন আরো অসংখ্য মানবিক গুণের অধিকারী হলেন আমাদের শেরপুর জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যার।
১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর জেলা হওয়ার পর থেকে অনেক দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন জেলা প্রশাসক মহোদয় এসেছেন।

তাঁরাও নিজেদের চাকুরীকালে শেরপুরকে নিয়ে ভেবেছেন, শেরপুরের উন্নতিতে কাজ করে গেছেন। পূর্ববর্তী স্যারদের প্রতি যথাযথ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই বলছি ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন স্যার সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। স্যার শেরপুরকে নিয়ে তাঁর ভাবনাগুলোকে শুধু ভাবনাতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাননা। তাইতো স্যার ভাবনাগুলোকে বাস্তবে রুপ দিতে শুরু থেকে নিজেই মাঠে নেমে কাজ করছেন। হাজারো ব্যস্ততায় একটু ফুরসত পেলেই স্যার ছুটে যান গজনীতে, পাঁয়ে হেটে বেড়ান এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে; নয়তো স্যার ছুটে যান কালেক্টরেট ইনোভেটিভ স্কুলে।

আর কালেক্টরেট চত্বর সৌন্দর্যবর্ধনে তো প্রায় প্রতিদিনই বিচরণ করেন। স্যারের একটাই চিন্তা কিভাবে শেরপুরকে অন্যন্য করা যায়। অসম্ভব রকমের প্রকৃতিপ্রেমী স্যারের ফুল খুব প্রিয়। বিভিন্ন সভা বা অনুষ্ঠানে স্যার প্রায়ই একটি কথা অনায়াসে বলেন যে, স্যারের সাফল্যের পেছনে মূল শক্তি হলো মহান আল্লাহর উপর অসীম ভরসা।

স্যার শেরপুর জেলার প্রতি আপনার এ ভালোবাসা শেরপুরবাসী যুগযুগ ধরে স্মরণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। স্যার হয়তো জানেন না শেরপুরকে অন্যন্য করতে গিয়ে তিঁনি নিজেই কখন অন্যন্য হয়ে উঠেছেন। স্যারের সততা ও মহানুভবতা আজ সবার মুখে মুখে।

স্যারের শৈল্পিক পরিকল্পনায় কালেক্টরেট মসজিদকে কেন্দ্র করে নব নির্মিত “প্রশান্তিদ্বার” মানুষের মনে প্রকৃতই প্রশান্তি এনে দেবে ইনশাআল্লাহ। স্যারের অফিসের “সেবাদ্বার” দিয়ে শেরপুরবাসী যেভাবে সেবা পাচ্ছে, তা ফিরতি ভালোবাসায় রুপান্তর হয়ে আপনাকে আরো অনন্য করে তুলুক।

 

আবদুর রহমান রানা
সিএ টু অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শেরপুর।
মোবাইল : ০১৭১৬২৭৩৩৭৮
ইমেইল : arana459@gmail.com

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!