ঈদের ছুটিতে ঘুরতে আসুন সীমান্ত অঞ্চলে

ঈদের লম্বা ছুটিতে সবারই কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাবার পরিকল্পনা থাকে। কারো ভালো লাগে পাহাড় আবার কারো সমুদ্র। তবে ঘুরে বেড়াতে আমরা সবাই কমবেশি পছন্দ করি। আর ঈদের লম্বা ছুটিতে সেই ঘুরে বেড়ানোর সুযোগটা কেউই হাতছাড়া করতে চায় না। সময় সুযোগ আর অবস্থা হিসেবে যে কেউ বেছে নিতে পারে তার পছন্দের বেড়ানোর জায়গা। ঈদের ছুটিতে সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে যেমন সময় কাটাতে পছন্দ করেন, তেমনই প্রকৃতির টানে ছুটেও যান অনেকে। বেড়ানোর জায়গা হিসেবে কারোর পছন্দ নদী-সমুদ্র, কারোর বা আবার পাহাড়। আবার অনেকেই ছুটে যান প্রাকৃতিক কোনো বনাঞ্চলেও। এই ছুটিতে পাহাড়-নদী-অরণ্যের আপনি কোথায় যাচ্ছেন, তা ঠিক করুন এখনই। আপনার ঘুরতে যাওয়ার স্থান হতে পারে- গজনী অবকাশ, মধুটিলা ইকোপার্কে।

গজনী অবকাশ:
জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। প্রকৃতিপ্রেমিদের মনে গজনী অবকাশ কেন্দ্রের সারি সারি গজারী, শাল ও সেগুন গাছের সারি প্রশান্তি এনে দেয়। শীতকালে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করতে ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ এখানে ছুটে আসেন । পাহাড়ী ঝর্ণা, লেক, টিলা, ছড়ার স্বচ্ছ জল ও ঘন সবুজ বন এখানকার পরিবেশকে দিয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য। গজনী অবকাশ কেন্দ্রে পাহাড়ী ঝর্ণার গতিপথে বাধ দিয়ে কৃত্রিম লেক তৈরি করা হয়েছে। লেকের মাঝে সৃষ্টি করা হয়েছে কৃত্রিম পাহাড় ও লেক ভিউ পেন্টাগন, যা একটি দোদ্দুল্যমান ব্রীজ দিয়ে সংযুক্ত আছে। গারো পাহাড়ের চূড়ায় ৬ কক্ষ বিশিষ্ট একটি আধুনিক রেষ্ট হাউজ রয়েছে। রেষ্ট হাউজ থেকে পাহাড়ের পাদদেশে যাবার জন্য রয়েছে পদ্মাসিঁড়ি নামক একটি আঁকাবাঁকা সিঁড়িপথ। গজনী অবকাশ কেন্দ্রে রয়েছে পর্যাপ্ত কার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ও খেলার মাঠ। পিকনিক করার জন্য এখানে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির নলকূপ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং রান্নার আয়োজন।

গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যা যা দেখবেন-
গজনী অবকাশ কেন্দ্রে একটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, এই টাওয়ার থেকে পাহাড়ি টিলার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। এছাড়া আরো রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা, ক্যাকটাস পল্লী, শিশু পার্ক, রংধনু ব্রীজ, ক্রিন্সেন্ট লেক, কৃত্রিম জলপ্রপাত, প্যান্ডেল বোড, পানসিতরী নৌকা, মুক্তিযুদ্ধ স্মুতিসৌধ, কাজী নজরুল ইসলাম ও রবিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিফলক, পাতাল পথ, লাভলেইন এবং বিভিন্ন প্রানীর প্রতিকৃতি। গজনী অবকাশ কেন্দ্রে আসা ভ্রমণকারীদের বাড়তি পাওনা হিসাবে রয়েছে গারো পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসীদের জীবনযাত্রা।

যেভাবে আসবেন-
ঢাকা থেকে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যেতে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াত করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। ঢাকার মহাখালি বাস স্ট্যান্ড থেকে ড্রিমল্যান্ড স্পেশাল বাসে করে শেরপুর আসতে জনপ্রতি ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া লাগবে। শেরপুর থেকে সিএনজিযোগে ঝিনাইগাতী উপজেলায় এসে আবার সেখান থেকে সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে সহজে যেতে পারবেন।

মধুটিলা ইকোপার্ক:
থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে নালিতাবাড়ী উপজেলায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারিভাবে মধুটিলা ইকো পার্ক এর অবস্থান। মধুটিলা ইকোপার্কে শোভাবর্ধনকারী ও বিরল প্রজাতির বৃক্ষের বনায়নের পাশাপাশি আছে বিশ একরের ঔষধি বৃক্ষের বনায়ন। এছাড়া রয়েছে রেস্ট হাউজ, বাসগৃহ, বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, স্টার ব্রিজ, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট এবং বসার স্থান। মধুটিলার লেকে ঘুরে বেড়ানো জন্য ৫ টি দেশীয় নৌকা ও ৩টি প্যাডেল বোট রয়েছে। বর্তমানে বিনা পয়সায় মধুটিলা ইকোপার্ক ও পর্যটন কেন্দ্রটিতে ঘুরে বেড়ানো যায়। সবুজের সমারোহ আর পাহাড়ের হাতছানিতে প্রতি বছর সারাদেশ থেকে সৌন্দর্য্য প্রিয় মানুষ মধুটিলায় বেড়াতে আসেন। মধুটিলা ইকোপার্কের খুব কাছেই রয়েছে।

মধুটিলা ইকো পার্ক যাওয়ার উপায়-
ঢাকা থেকে মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার, মিনিবাস কিংবা বাস রিজার্ভ নিয়ে সরাসরি চলে যেতে পারেন মধুটিলা ইকোপার্কে। এছাড়া মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় শেরপুর আসতে পারবেন।শেরপুর থেকে সিএনজিযোগে সরাসরি মধুটিলা ইকোপার্কে বা পিকনিক স্পটে চলে আসতে পারবেন। শেরপুর থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।