ইসলামে সালামের গুরুত্ব

ইসলামে সালামের গুরুত্ব
-মাওঃ হাফিজুর রহমান বাতেন

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
عن ابی امامة رضی الله تعالی عنه قال قال رسول الله صلی الله علیه و سلم اولی الناس بالله من بدا بالسلام.
رواه احمد والتر مذی وابوداود-
وعن عبدالله رضی الله تعالی عنه عن النبی صلی الله علیه وسلام قال البادی بالسلام بری من الکبر-
رواه البیهقی فی شعب الا یمان.
হযরত আবু উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় ঐ ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার নিকট শ্রেষ্ঠ, যে প্রথমে সালাম দেয়।
(আহমদ,তিরমিযী,আবু দাউদ)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) নবী করীম (স) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রথম সালামদাতা অহংকার থেকে মুক্ত।
(বায়হাকি শোয়াবুল ঈমান)

এই হাদীস দুটি দ্বারা প্রতীয়মান হয়, সালাম প্রদান বিনয়ের প্রতীক। আর বিনয়ী ব্যক্তি অহংকারী হতে পারে না। সুতরাং অহংকারমুক্ত হতে আমাদের অধিকহারে সালাম প্রদান করা উচিত।

সালাম শব্দের অর্থ শান্তি।
কোন ব্যাক্তি তার মুসলাম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাতে السلام علیکم বলে দোয়া কামনা ও কুশল বিনিময় করাকে সালাম বলে।

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যাক্তি রাসূলাল্লাহ (স) কে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামে কোন অভ্যাসটি উত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, ইসলামের উত্তম অভ্যাস হচ্ছে- ১। অপরকে খাবার খাওয়ানো। ২। পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া।

উপরের হাদীসে বর্ণিত ভালো কাজদ্বয়: ইসলাম মানবতার ধর্ম,শান্তির ধর্ম। ইসলামী জীবনব্যবস্হা নিশ্চয়তা দেয় এক সুখী-সমৃদ্ধ, দারিদ্র ও ক্ষুধামুক্ত অনাবিল শান্তির সমাজের। অত্র হাদীসে রাসূল (স) দুটি কাজের নির্দেশদিয়েছেন।

১।تطعم الطعام : ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির যুগ্মমিলনী এক জীবন ব্যবস্হা। এখানে মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কল্যাণের পথ প্রদর্শন করা হয়েছে। এ ধর্মে নেই রাজা প্রজার বিভেদ। সুতরাং ইসলামী নিশ্চিত করে খাদ্যের মত মানুষের মৌলিক অধিকার।
২।تقری السلام : ইসলাম ধর্মের অনুসারিগণ পরস্পর সাক্ষাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি কামনা করে থাকে সালামের মাধ্যমে। তাই রাসূলুল্লাহ(স) আল্লাহর শান্তি লাভের নিমিত্ত সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন।

و قال النبی صلی الله علیه وسلم اسلام قبل الکلم

হযরত নবী করীম (স) ফরমাইয়াছেন, কথা বলার আগেই সালাম অর্থাৎ মুসলমান মুসলমানে কথা বলতে হলে আগে সালাম দিয়ে পরে কথা বলতে হবে।

সালাম দেয়া সুন্নত আর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। যে আগে সালাম দিবে সে ৯০টা নেকী (সাওয়াব) পাবে আর যে সালামের উত্তর প্রদান করবে সে ১০টি নেকী (সাওয়াব) পাবে।

আল্লাহর রাসূলের অন্যতম খাদেম যিনি একটানা ১০ বছর আল্লাহর রাসূলের সহবতে ছিলেন তিনি বলেছেন, আমি উক্ত ১০ বছরের মধ্যে কোনদিনই আল্লাহর রাসূল (স) কে আগে সালাম দিতে পারিনি।

একদিন আল্লাহর রাসূল (স) ছোট ছোট বালকদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলেন এবং তাদেরকে সালাম দিলেন।

সালামের উপকারিতা : সালাম ইসলামী আচরণের অন্যতম নিদর্শন। অন্যান্য ধর্মে সাদর সম্ভাষণের জন্য যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয় সেগুলোর চেয়ে سلام এর প্রভাব ও প্রক্রিয়া অতুলনীয়। যেমন –
১। অপরিচিত ব্যক্তির সাথে পরিচয় লাভ হয়।
২। পূর্বপরিচিত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়।
৩। পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ দূর হয়।
৪। বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।
৫। আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
৬। ঈমান মযবুত হয়।
৭। অশেষ সাওয়াব অর্জন হয়।
৮। এর দ্বারা বিধর্মীদের সুপ্রভাব সৃষ্টি হয়।
৯। সামাজিক সম্প্রীতি সৃষ্টি হয়।
১০। পরস্পরের মধ্যে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে উঠে।
১১। সামাজিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়।
১২। পরস্পরের মধ্যে ভালবাসা বৃদ্ধি পায়।
১৩। বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক হয়।
১৪। সর্বপরি সালামের মাধ্যমে রাসূল (স) এর একটি সুন্নত জীবিত করার প্রচেষ্টা করা হয়।

মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান বাতেন
ভাইস প্রিন্সিপাল ; দারুল আমান মডেল মাদ্রাসা, শেরপুর।

শেরপুর টাইমস ডট কম-এর মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখার দায়ভার লেখকের নিজের। এর দায় শেরপুর টাইমস কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শেরপুর টাইমসের মতামত পাতায় আপনিও আপনার মতামত জানাতে পারেন sherpurtimesdesk@gmail.com এই মেইলে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।