আব্বু

আব্বু
ফারহান ইসরাক ইফতি

আমরা সবাই আব্বু ডাকের সাথে সম্পর্কিত । ছোটবেলায় যে মানুষটি আগে কোলে নেয় সেই মানুষটি হলো আব্বু । সেই কোলে নেয়ার পর থেকে যে মানুষটি কখনো কাছ ছাড়া হয় না সেই মানুষটি হলো আব্বু । একটা সময় আসে যে সময়ে আব্বু মানুষটা কোল থেকে নামিয়ে দেয় । হয়তো শরীর ভারী হওয়ার জন্য নয়তো বয়স বাড়ার জন্য । কিন্তু কোল থেকে নামিয়ে দেয়ার মানে এই না যে একদম ছেড়ে দিয়েছে ।হাত দুটির যেকোনো একটি শক্ত করে ধরে পাশাপাশি হাটাহাটি করে ।আব্বুর হাত ধরেই প্রথমে ঘরের বাইরের জগত সম্পর্কে জানা হয় ।

বিভিন্ন জিনিস দেখিয়ে অনেক জিনিসের নাম বলে হয়তো কিছু বুঝতাম হয়তোবা বুঝতাম না । কিন্তু তার হাত ধরে যে ছিলাম সেটা আনন্দের ছিল ।কিন্তু কেন আনন্দের ছিলো ? কারণ আব্বুর ধরে থাকার কারণেই নিজেকে সুরক্ষিত মনে হতো ।হয়তো মানুষেরা ক্ষতি করতো না । কিন্তু বিভিন্ন প্রাণি যেমন-কুকুর, গরু,বাচ্চাসহ মুড়গি এদের সাথে মজা করলেতো দৌড়ানিত দিবেই । আর ছোটবেলা এইসব প্রাণী দেখলেই একটু দুষ্টুমি করতে ইচ্ছে করতই । আর যখন দৌড়ানি দিতো তখন দৌড়ে গিয়ে আব্বুর হাত ধরলে আব্বু ঐসব প্রাণীকে তাড়িয়ে দিয়ে রক্ষা করতো । যাই হোক এইসব দুষ্টামি তো একসময় বন্ধ করে দিতেই হয় । পরে আসে স্কুল জীবন ।স্কুলে যখন কেউ ভর্তি হতে যায় তখন কেউ আব্বুর সাথে যায়, কেউবা আম্মুর সাথে । আমি গিয়েছিলাম আব্বুর সাথে । আর আমার আব্বুই ছিলো ঐ স্কুলের শিক্ষক । আব্বু ঐ স্কুলের শিক্ষক তার জন্য আমার মধ্যে একটা আলাদা ভাব । কিন্তু সেই ভাবই মাঝে মাঝে কাল হয়ে দাঁড়ায় ।অনেক উলটাপালটা কাজের জন্য আব্বুর হাতে মার, বকা সব খাওয়া হয়ে গিয়েছিলো ।তখন খুব রাগ হতো আব্বুর উপর । কিন্তু সেই শাসনই একটা সন্তানের জীবনে আলো নিয়ে আসে ।

যেসব আব্বু শাসন করে না তাদের সন্তান না বুঝে অনেক কাজ করে । আমার আব্বু ছোত থেকে আদরের পাশাপাশি শাসনটাও ভাল মতো চালিয়েছে । স্কুল জীবন ছিলো ১২ বছর । আর ১২ বছরই আমি আব্বুর চোখে ভিতর ছিলাম । তখন মনে মনে একটু খারাপ লাগতো । কিন্তু এখন মনে হচ্ছে আমি তখনই সবচেয়ে ভাগ্যবান ছিলাম । কারণ একটা সন্তানকে স্কুলে দিয়েই সবার আব্বু-আম্মু চলে যেতো । কিন্তু আমার আব্বু যেতো না । তাকে আমি ২৪ ঘণ্টাই আমার পাশে পেতাম । স্কুলে শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি আমি তার কাছ থেকে শিক্ষাও পেতাম আর আদরটাও ।

বিভিন্ন সমস্যা হলে আমি আব্বুর কাছে যেতাম । তখন অনেক কিছু বুঝতাম না । জীবনে তো কিছু ভুল হয় । সে সময় আম্মু বললো আব্বুকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানাতে । আমি বানালাম । তারপর আমি আব্বুর সাথে সব সেয়ার করতে শুরু করলাম ।সে আমার সব সমস্যার সমাধান দিতে থাকলো । এইভাবে আমাদের মধ্যে মজা আনন্দ চলতেই থাকে ঠিক বন্ধুর মতো । শুধু বন্ধু না প্রিয় বন্ধু । সব সন্তানের উচিত বাবাকে বেস্ট ফ্রেন্ড বানানো । কারণ বাবাকেই সম্পূর্ণরূপে ভরসা করা যায় । একমাত্র আব্বুকে সব বললে, মানুষটা কখনো ধোঁকা দিবে না ।

এখন আমার স্কুল জীবন শেষ । এখন আব্বু আর ২৪ ঘণ্টা থাকে না । এখন সেই জীবন আর এই জীবনের পার্থক্য কথা বলে । তবু এখনো কিন্তু আব্বু আমার সাথে আছে । আমাকে অনেক উপদেশ দেয় ।কিছু কিছু মাথায় ঢোকাই আর কিছু কিছু ঢোকাই না ।কিন্তু সবযে মাথায় ঢুকিয়ে মানা উচিত তা বুঝা যাচ্ছে না । কিন্তু বুঝবো । যে জিনিস থাকে সে জিনিসের মর্ম কেউ জানে না । তেমনি যাদের বাবা নেই তারা বুঝে আব্বু না থাকার কষ্ট ।

ছোটবেলায় যে মানুষটা তোমার আমার হাত ধরেছিলো সেই মানুষটার হাত তোমাকেও ধরতে শিখতে হবে । আব্বুকে অবহেলা না করে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে জীবনটা কাটালে জীবনে কোনো কিছুরই অভাব থাকবে না ।আর যে মানুষটি অভাব পূরণ করবে সে হলো তোমার আমার আব্বু ।তাই আব্বুকে অবহেলা না করে তার হাত ধরে থাকা উচিত । অন্য কেউ বন্ধুত্ব রক্ষা না করুক কিন্তু আব্বু করবে । তার জন্যই তো সে আব্বু । আব্বু মানে ভরসা, আব্বু মানে আদর আর আব্বু মানে সব ।

আব্বুর প্রতি ভালোবাসা, পৃথিবীর সব বাপ সুখী হোক ।

ফারহান ইসরাক ইফতি,
একাদশ শ্রেণি (মানবিক)
শেরপুর সরকারি কলেজ ।

শেরপুর টাইমস ডট কম-এর মতামত পাতায় প্রকাশিত লেখার দায়ভার লেখকের নিজের। এর দায় শেরপুর টাইমস কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে না। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে শেরপুর টাইমসের মতামত পাতায় আপনিও আপনার মতামত জানাতে পারেন sherpurtimesdesk@gmail.com এই মেইলে।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।