You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

আদর্শ বীজ তলায় খরচ কম, লাভ বেশী

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে পৃথিবী, আর প্রযুক্তির আদলে যাচ্ছে কৃষিও। এ প্রযুক্তির উপকার ভোগ করছেন সর্বসাধারণ। বাংলাদেশে কৃষির অন্যতম পরিবর্তন ঘটিয়েছে এসকল প্রযুক্তি। কৃষি উন্নয়নের ডাইরীতে দিন দিন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবস্থা। এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবস্থা হলো কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলা। এই বীজতলা তৈরী ও চাষে কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাচ্ছে। শেরপুরের সব উপজেলাসহ দেশের প্রায় সব জায়গায় কমিউনিটি বীজতলা তৈরীতে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েই চলছে। তবে নকলা উপজেলায় এই বীজতলা তৈরীতে কৃষকরা বেশি ঝুঁকছেন। দিনদিন এ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কমিউনিটি (আদর্শ) বীজতলা তৈরী করায় কৃষকের ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কম লাগছে।

নকলা উপজেলার চরকৈয়া এলাকার কৃষক ফরিদুল ও কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার কৃষক লিয়াকত আলী জানায়, আগের পদ্ধতির চেয়ে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করলে বীজ, শ্রম, সার, জায়গা, সেচ ও সময়সহ খরচ অনেকাংশে কম লাগে কিন্তু ফলন ভালো পাওয়া যায়।

সনাতন পদ্ধতিতে যে জায়গায় ৫০ কেজি বীজ প্রয়োজন হত সেখানে কমিউনিটি পদ্ধতিতে ৩৫ কেজি. বীজ লাগে। তাতে বীজতলা তৈরী থেকে অন্যান্যসব মিলে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ কম হয়েছে, অথচ আগে ৫০ কেজি. বীজের চারা দিয়ে ২.৫ একর জমি রোপন করা যেতো, আর কমিউনিটি বীজতলার ৩৫ কেজি. বীজের চারা দিয়েও ওই জমিটুকু রোপন করা সম্ভব। তাছাড়া আগের চেয়ে ফলন ভালো হয়, সেবা যতœ করাও সহজ হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, তারা কয়েক বছর ধরে কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করতে কৃষককে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বীজতলা তৈরির মৌসুমে ছুটির দিনেও মাঠে ঘুরে কৃষকদের পরামর্শ দেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় হাইব্রিড জাতের ধান ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর, উফসী জাতের ৬ হাজার ১৯৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ৮০ হেক্টর জমিসহ মোট ১২ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আবাদের জন্য ৮০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি শেষ হয়েছে।

এর মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ প্রজেক্ট (এনএটিপি-২)’র আওতায় ২৫টি প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে সাড়ে তিন একর জমিতে ৫৮০ কেজি. ধানের বীজ কমিউনিটি (আদর্শ) পদ্ধতিতে বপন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, কয়েক বছর যাবৎ কৃষকদের কমিউনিটি বীজতলা তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা লাভবান হয়েছেন। এই পদ্ধতিতে লাভ দেখে অন্যান্য কৃষকরা নিজ উদ্যোগে কমিউনিটি পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করছেন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে উপজেলার সব বীজতলা এই পদ্ধতিতে করা হবে বলে তিনি আশা করছেন। তাতে কৃষি অর্থনীতি আরও সচল হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

 

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!