You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

আড্ডায় মেতে উঠুন স্টার ব্রীজে…

আড্ডা প্রিয় বাঙালীদের আড্ডা দেওয়ার কোন বিশেষ স্থানের প্রয়োজন হয়না। নদীর ধার, পাকুর পাড়, রাস্তার ফুটপাতের টং চায়ের দোকান অথবা ছায়া ঘেরা নির্জন কোন স্থান পেলেইে বাঙালীরা আড্ডায় মেতে উঠতে পারে। তবে বিশেষ কোন দর্শনীয় স্থান হলেতো কোন কথাই নেই। বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন আর প্রিয়জনদের নিয়ে জম্পেশ আড্ডায় মেতে উঠি আমরা।

ইদানিং শহরের বিভিন্ন চাইনিজ ও ফাস্টফুড এবং কফি হাউজের আড্ডার ধরন গতানুগতিক হলেও নির্জন কোন পাহাড়ে বা ছায়াঘেরা পরিবেশ আরো জম্পেশ হয়ে উঠে আড্ডায়। এমনি এক জম্পেশ আড্ডায় মেতে উঠতে চাইলে চলে যান জেলার নারিতাবাড়ি মধূটিলা ইকোপার্কের ত্রিমুখি লেকের উপর নিার্মত ‘স্টার ব্রীজে’। আড্ডার পাশি এখানে সেলফিবাজিতেও মেতে উঠতে পারেন। তাই দেরি না করে বন্ধু-বান্ধব আর প্রিয়জনদের নিয়ে ছুটে যান মধুটিলা ইকেপার্কে।

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা শেরপুর জেলার প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সীমান্ত জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই গারো পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পর্বত বা পাহাড় ও লেক না থাকলেও এখানকার শাল-গজাড়ি, ইউকিলিপটাস-একাশিয়া, সেগুন-মেহগিনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগালি ঘেরা উূঁচু নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝর্ণা, ঝোড়া ও ছড়া দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোন প্রকৃতি প্রেমির হৃদয়কে আন্দোলিত করবে। সেই সঙ্গে ওই সব পাহাড়ি টিলার উপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী নৃ-গোষ্ঠির নানা স¤প্রদায়দের লোকদের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে।

পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাড়িয়ে উচু-নিচু পাহাড়ের গায় মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসিদের ঘর-বাড়ি’র দৃশ্য মন ছুয়ে যায়, হৃদয়কে উদ্বেলিত করে। সেই সাথে এই গারো পহাড়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বেড়াতে আসা হাজার হাজার নর-নারী ও প্রেমিক-প্রেমিকার এ যেন মিলন মেলা ও হাট বসে।

১৯৯৯ সনে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেষ্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বীটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার উপর “মধুটিলা ইকো পার্ক” নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে।

গারো পাহাড় এলাকায় নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক ওই পিকনিক কেন্দ্রে এখন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় ভরে উঠেছে। প্রতি বছর শীত মওসুমে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষা সফর ও বনভোজনে বাস, মাক্রোবাস, প্রাইভেট কার করে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসুরা বেড়াতে আসছে।


ইকোপার্ক সূত্রে জানা গেছে, এখানে বর্তমানে সুদৃশ্য প্রধান ফটক, ডিসপ্লে¬¬ মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গাড়ী পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, মনোরম লেক ও বোটিং, স্টার ব্রীজ, স্ট্রেম্পিং রোড বা সুউচ্চ পাহাড়ে উঠার জন্য ধাপ রাস্তা (সিঁড়ি), মিনি শিশু পার্ক, মহুয়া রেষ্ট হাউজ, স্টীলের ছাতা, ইকো ফ্রেন্ডলি বেঞ্চ, আধুনিক পাবলিক টয়লেট, পার্কের প্রবেশ পথ ধরে যাওয়া বিভিন্ন সড়কের পার্শ্বে স্থাপন করা হয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্য কন্যা, মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীব জন্তুর ভাষ্কর্য রয়েছে। এছাড়া আরো রয়েছে বিরল প্রজাতি, পশু পাখি আকৃষ্ট, ঔষধী ও সৌন্দর্য বর্ধক প্রজাতির গাছের বাগান, মৌসুমী ফুলের বাগান এবং সাত রঙের গোলাপ বাগান। পার্কের উচু টিলার উপর ৩ কামরা বিশিষ্ট সুদৃশ্য বাংলো বা ‘মহুয়া রেস্ট হাউজ’ ব্যাবহার করতে হলে ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগ অফিস থেকে প্রতিদিনের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২০০ টাকা ভ্যাটসহ মোট ৪৭০০ টাকায় ভাড়া নিতে হবে।

ইকোপার্কের দয়িত্বরত স্থানীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা আব্দুর করিম জানান, যেভাবে এই পার্কে দর্শনার্থী বা ভ্রমণ পিপাসুদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে সরকারের এই স্পট থেকে বছরে কোটি টাকার উপরে রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে সেজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তা, পার্কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিসহ ইকো পার্ক থেকে নন্নী বাজার মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা প্রসস্থকরণ খুবই জরুরী। এতে দেশের দূর দুরান্তের বিভিন্ন লাক্সারী বাস ও কোচ সহজেই ইকো পার্কে আসতে পারবে।

যেভাবে যাবেন ঃ জেলা সদরের লোকাল বাস স্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ি উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাসে জন প্রতি ৩০ টাকায় অথবা সিএনজি চালিত অটোরিক্সায় যেতে ভাড়া লাগবে জন প্রতি ৪০ টাকা। এরপর মধুটিলা ইকো পার্ক পর্যন্ত রিক্সা বা ব্যাটারি ও সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় যাওয়া যাবে। এতে জন প্রতি ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং রিজার্ভ ভাড়া নিবে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।

এছাড়া শেরপুর জেলা শহর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিক্সা অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও ইকো পার্কে যাওয়া যাবে। দিন চুক্তি ভাড়া নিবে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। আর নিজের কোন বাইক বা যান থাকলে তো কথাই নেই, প্রিয়জনদের নিয়ে কোন এক ছুটির সময় ঢু মেরে আসুন মধুটিলা ইকোপার্কের মনোরম স্টার ব্রীজে।

লেখক : সাংবাদিক ও উপদেষ্টা সম্পাদক, শেরপুর টাইমস।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!