আগের সফরে প্রধানমন্ত্রী তিস্তার আধা লিটার পানিও আনতে পারেননি : রিজভী

ভারতের কাছ থেকে তিস্তার পানিসহ ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করলে কেউই পাত্তা দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘আগের সফরে প্রধানমন্ত্রী তিস্তার আধা লিটার পানিও আনতে পারেন নাই। সমতার ভিত্তিতে আদায় দূরে থাক ভারতের কাছ থেকে শেখ হাসিনা একটা কানাকড়িও আদায় করতে পারেননি।’

আজ শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক পথসভায় রিজভী এসব কথা বলেন।

ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের উদ্যোগে দুপুর সোয়া ১২টায় নয়াপল্টনে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করে বিএনপি। মিছিলটি নাইটিঙ্গেল মোড় হয়ে আবার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজ মুখেই বলেছেন, ‘‘আমরা ভারতকে অনেক কিছুই দিয়েছি।’’ কিন্তু কি দিয়েছেন তা জনগণ এখনো জানে না। জনগণ শুধু জানে ভারত থেকে কিছু আদায় করতে শেখ হাসিনা ব্যর্থ হয়েছেন।’

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এ নেতা আরও বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পানি কম পাওয়ার কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সেচের কাজ, প্রাণী বৈচিত্র্য, গঙ্গা-কপোতাক্ষ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিম্ন অববাহিকার অনেক ভেতরে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে। এ বিপর্যয় এড়াতে আরেকটি গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিও (সম্ভাব্যতা যাচাই) সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের সময় কি এরকম স্ট্যাডি করা হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রী কি এসব প্রশ্ন করতে পারবেন।’

রিজভী আহমেদ প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, ‘কোনো কোনো মন্ত্রী অতি উৎসাহী হয়ে বলছেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রী কিংবা ভাই-বোনের। কিন্তু কে স্বামী কে স্ত্রী বা কে বোন কে ভাই সেটি উল্লেখ করেননি-জনগণও এটি জানতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, বন্ধু রাষ্ট্রের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে সমতার ভিত্তিতে লেনদেন সম্ভব। কিন্তু নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন করলে কেউই পাত্তা দেয় না।’

রিজভী আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে শেখ হাসিনার “নো কম্প্রোমাইজ” বলাতেই প্রমাণিত হয় বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার জেদ ও প্রতিহিংসার কারণেই কারাগারে বন্দী হয়ে আছেন। সেক্ষেত্রে আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া কেবল মুখোশমাত্র। বেগম খালেদা জিয়ার বিয়োগান্তক পরিণতি না ঘটানো পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা পূরণ হবেনা। এ কারণেই বিনা অপরাধে বেগম জিয়াকে ধুঁকে ধুঁকে মারার জন্য তাকে বন্দী করে ষড়যন্ত্রের নিষ্ঠুর ছক আঁটা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর শর্তই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি।’ এ কারণে তরুণদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে বলে তিনি মনে করেন।

মিছিলে আরও অংশ নেন- ছাত্রদল ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল, সিনিয়র সহসভাপতি মো. রাজিব আহমেদ, সহসভাপতি মাহামুদুল হাসান বসুনিয়া, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সজীব আহমেদ রানাসহ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।