অর্থাভাবে জেসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না

অর্থাভাবে ঝরে পড়া জেসমিন আক্তার এবার মেধা তালিকায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। জেসমিনের বাবা জিয়াউল হক শেরপুর সদর উপজেলার গাজির খামার বাজারে ফুটপাতে চা বিক্রি করেন। মা-বাবাসহ ৫ বোন ও ১ ভাইয়ের সংসারে অনেকটা খেয়ে না খেয়ে অযত্ন-অবহেলায় বড় হলেও অদম্য ছিলেন লেখাপড়ায়। জেসমিন এসএসসি ও এইসএসসিতে মেধার সাক্ষর রাখার পরও অনেকটা ঝরে পড়ার শেষ মূহুর্তে নজর পড়ে সেচ্ছাসেবী সংগঠন দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থী উন্নয়ন সংস্থা ‘ডপস’ প্রতিষ্ঠাতা সেনা সদস্য শাহিন মিয়া বিএসপি’র।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং তো দুরের কথা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম তোলার টাকাও ছিল না তার। সর্বশেষ ৩১ অক্টোম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম ফিলাপের শেষ তারিখের আগের দিন ৩০ অক্টোম্বর শাহিন মিয়া জেসমিনের খোজ পেয়ে ছুটে যায় তার বাড়িতে এবং তার মেধার খবর নিয়ে নিজের পকেট থেকে ১২০০ টাকা দিয়ে তাকে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ করে দেয়। ভার্সিটি ভর্তির কোন রকম প্রস্তুতি ছাড়াই জেসমিন গত ৬ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে গ ইউনিট থেকে মেধা তালিকা ১১৭ তম স্থান পায়।

জেসমিন জানায়, সারাদিন কিছু না খেয়ে কেবল মাত্র পানি পান করে পেটকে সান্তনা দিয়েছে কতটা দিন কতটা রাত তার হিসেব দিতে পারেনি জেসমিন। মেয়েদের গার্মেন্টস এ পাঠাতে এলাকাবাসীর চাপে পড়ে কত রাত চোখের পানি ঝড়িয়েছে জেসমিনের বাবা তারও কোন হিসেব দিতে পারেনি। অথচ জেসমিন এইচএসসি পরীক্ষার পর সংসার আর পেটের ক্ষুধা মেটাতে স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পারটাইম চাকুরি করেন। জিয়াউল হকের মাত্র ৩ শতক পৈত্রিক জমিতে বাড়ি ভিটে ছাড়া কোন জমি নেই। তাই একমাত্র আয়ের উৎস প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত গাজির খামার বাজারের ফুটপাতে চা বিক্রি করা।

বর্তমানে তার ভার্তির জন্য প্রায় ২০ হাজার টাকার প্রয়োজনে। তাকে কেউ ভর্তির জন্য আর্থিক সহযোগিতা করতে যোগাযোগ করতে পারেন।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।