অবশেষে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন অসহায় রিনা বেগম


সহায় সম্বলহীন, বিধবা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রিনা বেগমের (৫৫) ৩০ বছর ধরে সরকারি কোনো সহায়তা ভাগ্যে জুটেনি। মানুষের বাড়ীর বারান্দা কিংবা রান্নাঘরে থেকে ভিক্ষা করে জীবন চলে তার। স্বামী এবং একমাত্র ছেলেকে হারিয়েছেন অনেক আগেই।

অসহায় এই নারীর করুণ জীবনকাহিনী শুনে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি থাকার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন সাদ্দাম হোসেন অনন্ত নামের এক ব্যবসায়ী। থাকার ঘরে বিদ্যুৎ, নতুন খাট ও বিছানাপত্রের ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন তিনি।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার ৩ নং তারাটি ইউনিয়নের তারাটি চরপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, থাকার নতুন ঘর পেয়ে অনেক খুশী রিনা বেগম।

তিনি জানান, “শীত বাদলায় ম্যালা কষ্ট করছি, ভালা কইরা ঘুমাইবার পারিনাই। চেয়ারম্যান, মেম্বরগরে অনেক কইছি, কেউ আমারে কিছু দেয়নাই। ওহন ঘর পাইছি, থাহার আর চিন্তা নাই।”

স্থানীয় মজিবর রহমান জানান, “তার মতো অসহায় মহিলা আমাদের এলাকায় আর একটিও নেই। মেম্বার, চেয়ারম্যানকে অনেক বলেছি তাকে একটা কার্ড করে দিতে, কিন্তু তারা দেয়নি।” সরকার গরীবকে অনেক কিছুই দিচ্ছে। কিন্তু যারা পাবার যোগ্য তাদের অনেকেই তা পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ৩ নং তারাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনিরের সাথে যোগাযোগ করে কথা বলা সম্ভব হয়নি। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন অনন্ত জানান, নিতান্ত মানবিক কারণেই অসহায় এই মহিলাকে থাকার ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি।

বিত্তবানদের সমাজের যেকোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।” উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা সরকার জানান, “অসহায় এই মহিলার খোঁজখবর নিয়ে তাকে সরকারীভাবে সবধরনের সহায়তা করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।