অদ্ভুত সৌন্দর্যে সেজেছে কুয়াকাটা

কুয়াকাটার বেলাভূমি বেশ পরিচ্ছন্ন। ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এ সৈকত থেকেই কেবল সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। সৈকতের পূর্ব প্রান্তে গঙ্গামতির বাঁক থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়। আমরা সেখানে গিয়ে পরদিন ভোরবেলা গিয়ে উপভোগ করলাম সূর্যোদয়। দৃশ্যটি এতটাই সুন্দর ছিল, লিখে প্রকাশ করা সম্ভব না! এরপর বাইক ভাড়া করলাম অন্যান্য জায়গাগুলো ঘোরার জন্য।

প্রথমেই গেলাম রাখাইন পল্লী। যার মুখেই আরেকটি বৌদ্ধ মন্দির আছে; যেখানে ৩৬ ফুট লম্বা একটি মূর্তি আছে। রাখাইন পল্লীটা অনেক ব্যাতিক্রম ও চমৎকার লেগেছে। ওদের ঘর বাড়ি, জীবনযাপন সত্যিই অন্যরকম মনে হলো। বাড়ির আঙিনা ছোট ছোট গাছে ভরা, টিনের দোতলা ঘর, ঘরের সামনে ওদের বানানো জামা কাপড়ের দোকান ইত্যাদি। সেখান থেকে গেলাম ঝাউবন সংলগ্ন কুয়াকাটার শেষভাগে। যেখানে গিয়ে মনে হলো, আমি সেন্টমার্টিন আছি! সৈকত পাড় পুরোটা ঝাউ গাছে ভরা, আরেক পাশে কিছুটা নিস্তব্ধ সাগর। ভাগ্য ভালো হলে চোখে পড়বে লাল কাঁকড়ার ঝাঁক।

ঝাউবন থেকে একটু এগিয়ে গেলেই বিভিন্ন ধরনের গাছপালা ও এক পাশের সমুদ্র আপনাকে মুগ্ধ করবেই। হয়তো মনের অজান্তেই গাইতে থাকবেন- ‘এই পথ যদি না শেষ হয়…।’ সেখান থেকে ছোট একটা নদী পার হলেই গঙ্গামতীর চর। সেখানেও এক পাশে সাগর, আরেক পাশে বিচিত্র রকমের গাছ। এরপর গেলাম লেবুর চর ও তিন নদীর মোহনা। তিন নদীর মোহনায় দাঁড়িয়ে ফাতরার চর দেখা যায়; যেটি সুন্দরবনের একটি অংশ। শীতকালে কুয়াকাটা বীচ থেকে বোটে করে সেখানে যাওয়া যায়।

ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলবে লাল কাঁকড়ার

ভাগ্যে থাকলে দেখা মিলবে লাল কাঁকড়ার

নির্দেশনা

নদী ও সড়ক পথে ঢাকা থেকে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। লঞ্চে ঢাকা সদরঘাট থেকে পটুয়াখালী বা বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। আর বাসে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা। তবে সবচেয়ে সহজ ও আরামের কথা বিবেচনা করলে নৌপথই উত্তম। ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে লঞ্চে করে পটুয়াখালীতে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে কুয়াকাটা যাওয়া যায়। অথবা লঞ্চে সদরঘাট থেকে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

পর্যটকদের থাকার জন্য কুয়াকাটায় বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল আছে। মান অনুযায়ী এসব হোটেলে চারশ’ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় থাকতে পারবেন। মোটামুটি মানে থাকার জন্য ৫০০-২৫০০ টাকায় হোটেল রুম পাবেন। শেয়ার করে থাকলে খরচ কম হবে। মৌসুম ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া গেলে আগে থেকে হোটেল বুকিং দেয়ার প্রয়োজন হয় না।

শর্টলিংকঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।