You dont have javascript enabled! Please download Google Chrome!

অজানা বিদ্যা

হুইসেল হোসেন
গ্রামটা  স্ববির হয়ে পড়েছে, প্রাণ আছে অভয়ব, দেহটা লড়াচড়া করছে না। ভিতরে লাল রক্ত পানিতে হাড়-কল-কব্জা আটকানো পরিত শরীরের থললে মাংস কাদায় মেজে উষ্ণাতা পেয়েছে। অন্দ প্রতিষ্ঠানের উপরিভাগে পূর্ণ যোবক বয়সের কালো-কুচকুচে পশমগুলো হেলে পড়েছে, যেন কালবৈশাখীর ঝড়ে একশত ষাট কিলোমিটার বেগে তেড়ে আসা প্রলয়হত বাতাসে।

সবুজ প্রণালী উচুঁ মাপের গাছ মেরুদন্ড হতে শুরু করে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে হাত নখ ডালপালা পাতাঃ দৃষ্টিশক্তি অবশাদ নিশ্বাস পিলপিলে সাঝের সাথে কথা বলার তোয়াড়াই দমে থাকার তোয়াক্ত। না পাছে ঠেলে উঠেছে। কটকটে ভেদে গেলো, আচড়ে পড়েছে মাটির পাটিতে। ঘাসগুলো আদিকন করছে শীতল সাদা পাথর শীলের মাঝে ভারি বৃষ্টির জলে উচুঁ পাড় হতে ঢালে নেমে আসা স্ত্রোতে রেগ সাজ করেছে। সে মহল্লায় ঝড় ওঠে সে মহল্লায় ঘরের চাল গাছের ডালপালা পাখির বাসা ভেদে মোচড়ে পড়ে, শুরু হয়ে যায় হাহাকার নামা, সৃষ্টিকর্তাকে সুধার এমনটা কেন হলো! ডানে কিংবা বামে সামনে অথবা পেছনে ঘটনাটা ঘটতে পারলোনা, একদম বুকের হৃদপিন্ডে!
অথচ পার্শবর্তি মহল্লায় কনকনে হিমেল তীব্রতার বাতাসের আর্বতে কাথা মোড়ন দিয়ে নাক ডেকে ঘুমায়।

বাতাস যেমন প্রাণের প্রদান সঞ্চার, তেমনি প্রাণ নেভয়ারও অশ্র বলবদ ধায় পোষণ করে। শুধু পরিমাপের বাইরে সবটুকুই অসুর হয়। বজ্রপাতে জীবনহানি ঘটে মানুষের পশু-পাখির শরীর দেখলে বুঝা যায় মিছিলে রাসায়নিক বোমায় ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে দেহ এবার হতে ওধারে: হৃদয়টা কিছুক্ষণ ধড়ফড়িয়ে বদ্ধ আবেশ হতে খোলা প্রান্তে মহা-মহাশয়ের কাছে চলে গেলো। তারপরও মাটিতে ছিটিয়ে থাকা মাংসপেশি ধুকধুকে প্রাণহীন ধাফড়িয়ে চলল। পাত্র পণ্যে ভরে গেলে আর পণ্য বহনের ক্ষমতা রয়না।
চৈত্রমাস, খুবই উত্তাপ্ত রৌদ্রের তাপমাত্রা সূর্য্য, তাপ আগুণ তার চুলায় সবসময় জ্বালিয়েই রাখে। বেশ সোনালী সে রং! দৃর্ঘ্যক্ষণ সে রঙের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখে ঝাঝ আসে, মনি পাথরে নেশা হয়, নেমে আসে নিরঙ্কুশ আধার তাপদাহে পুড়ে শরীরকে সচল রাখতে তরল প্রান্তিগোষ্ঠি লবণাত্বক কোমল পানির বেরিয়ে আসছে উপরে। অথচ গরমের অগ্নিগর্ভ আরাম্ব হয় এখান থেকেই যে লোনাঝড়া শরীরে লবণ আশ দাগ কাটা গরমে নিপিড়িত জল বের হয়, সে অতিশয় শীতল।
অলস সময় কাটাচ্ছে বৃক্ষের সবুজ জামা সমাহার আছে, সমাধানহীন। প্রকন্ড তাপদাহে পুড়ে যাচ্ছে মাটি। বৃষ্টি নেই, খড়া, বিস্তীর্ণ জুড়ে এটো একে যাচ্ছে পানিহীন প্রাণ। চারিদিকে শুধু ধু-ধু শুকনা বালির চর। এতে শোভ। পেকে আমোদ নিয়েছে নয়নাবিরাম সবুজ পাতা, লাল-সাদা হলুদ-গোলাপী ফুলের পাপড়ি মধু সন্ধ্যানি মৌমাছি ভুমরদল-প্রজাপতি তার মুখরোচক ঠোট চাপাতি মেলেধরা পেখম পাখায় উড়ে এসে ফুলের নাভিমৃলে হাটুমৃরে বসে নাভি কামড়ে মধু খেলো কিছু আরোহন করলো সঞ্চয় ভেবে। ধুলা-বালি লেগে গেলো তাদের পাখায়-পায়।
গ্রামটা কৃষিনির্ভর; গরুর কাধে লাঙ্গল-জোয়াল তুলে দিয়ে কুঠুরি ধরে ঠা-ঠা হ্যাঁ ডালে-কিংবা বামে যা, গরুর কানে আওয়াজটুকু পৌছে চাষের চাষ বেড়ায় কৃষক। তারপর সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য মই দেয়, দুরবা বাধুলে আি ঘাষ মাটি থেকে শিকড়সহ উপরে উঠে শূন্যে। বেচে থাকার বিভোর স্বপ্নে মাতুহারাই মেতে থাকতে না থাকতেই প্রাণ নাশের ক্সিয়া চাষাবাদ শুরু। টগবগে সজিব সতেজ পিলপিল পাতাগুলো কুচকে আসে অল্প কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে। সকালের শিশিরে লান্দলে কাটা পড়া মাটি ঘাসের পাটি বৈকালে মৃত ঘাসগুলো ক্ষেত হতে সরাতে পূর্ণিমা আরাম্ব হয়ে যায়। এভাবে মাঠ প্রান্তর দিগন্ত সাজিয়ে রাখছে বৈশাখীর কালঝড়ের শিলা-বৃষ্টির পরে ফসল ফলানোর আশায় সূর্যের তাপদাহের খাদ্য শুকানো, চাঁদের খাদ্য জোসনা বিলানো। ফসলের খাদ্য ভেজারস
বেশ কয়েকদিন যাবতই সুলতানের দরিদ্র নিষ্পেষিত কাজ নেই বলে ঘরে অভাব ঝেঁেক বসেছে। চামড়ায় খুশকি চিটচিটে ভাব ঘামের উপর চষে দৌড়াচ্ছে সেকালে রং ঘরে সুন্দরী বৌ, নাম জমিরণা। বিয়ের পিড়িতে বসেছে একবছর প্রায় হতে চলল। যৌতুকবিহীন বিনা খরচায়। সামিয়ানা ঘটক পাত্রের বাড়ী থেকে পাত্রির উঠানে কাধের নিচ হতে বয়সের চাপে রৌদ্রে খাওয়া কালো ছাতা নামিয়ে কিছু চালচালনা ভাজার মাঝে যে কয়টুকু পয়সা ব্যয় হয়েছে তার নৈতিকতার আড়লে খরচা হয়নিই। গেই আটকানো সালা-সালিদের আব্দার মিটিয়ে ভুড়িভোগ ‘খাওয়া’ শেষ করে পান চিবানো সুপারি-চুনে মিশে কালো পাথর দাতের ফাসালে? মাড়িতে গামের মতো আসন নিয়েছে। বিয়ের দিন গণনা থেকে শুরু হয়ে প্রতি মৃহুর্ত্য দুশ্চিন্তা দস্যু ফাপার কেটেছে। ধান ঘাস কাটা কাচির মাথা দিয়ে পরিষআর করতে ব্যয় ক্ষৎপন করেছে। দাতের গোড়া শক্ত হবে শোনে নিমের ডালের মেশয়াক ঠোঁটের গলার ফলা সাজিয়ে রেখেছিলো। নদীর পাদদেশে পাড়ে চিকচিকে বালি ধারায় ঘষতে-ঘষতে জিহ্বার শ্বাধনালী উঠে পড়েছে, তবুও শেষ রক্ষা পায়নিই।

অবশেষে খয়েরি রন্দের দাত নিয়েই গিচয়ছিলো সুলতান। বেশ ছিপনিপে চেহারা চিকন স্বাস্থ্য লম্বাটে মুখখানা চুলগুলো মোটাতাজা কুচকুচে কালো। অমন অভিনব চেহারাকানের মানুষের দাত খয়েরি বড্ডই বেমানান। কথা বললেই ঠোঁটের পিঠ খুলে যায়। কন্ঠশক্তির বাতাস বের হয় পর্যটক হয়ে। দাতের লজ্জা নেই। প্রাপে আঘাত করে। সাদা রুমাল তেপে ঢেকে হায়। কিছু মূহুর্ত্যেই কাজি এসে বিয়ে পড়ানোর কাজে মনোনিবেশ চালালো। একজন বিয়ে কোর্টে মেয়ে বুঝিয়ে দিতে উকিল বাবা হলেন বর-কনের স্বীকারক্তিতে বিয়ে সমাধান হলো। দেনমহোর বাধা হয়েছিলো ত্রিশ হাজার টাকা। ধর্মীও অনুসারে ফুলে-ফুলে সাজানো দারিদ্র বিমোচন হয়ে সাহায্য দেওয়া গন্ধের নিঝাস বাসর ঘরের চৌকাঠে ডান পা এগিয়ে ফালানোর আগে বাম বুক পকেটে দেনমোহরের দস্তাদস্তি টাকাগুলো নিয়ে প্রবেশের হুকুম চিরধার্য্য ফুলের শোভা মন্ডিত ঘরে ঢুকে দরজার খিলে লাগিয়ে লালটুক-টুকে বেনারসী শাড়ীতে মাথা নুয়ে ঘোমটায় যৌবন লজ্জা ঢেকে রেখেছে জমিরণ । সুলতান জমিরণের টনকন্যে গিয়ে পুরুষ হীনমনায় বলেছিলো, আজ আমাদের বিবাহওর পরবর্তি বাসর। প্রেম প্রনয়ী যৌন ক্ষুধার শাররিক সংস্পর্শ যৌবন সংবর্ধনার রাত। আমার প্রদান কর্তব্যছিলো তোমার দেনমোহরের টাকা বুঝিয়ে দিয়ে কাছে আসার। বিনয়হত আমায় ক্ষমা কর! দরিদ্রতার ঝুলিতে শুধু আমি একা আবদ্ধ হয়নিই! আমাদের পুরো বংশ আহত। সুলতানের একথায় অন্তরালে লুকিয়ে আছে নিজের স্বার্থ সংক্লিষ্ঠটা। সুলতানের ধারণা যদি টাকা নিয়ে এই অভাবী পুরুষ স্বামীর ঘর-সংসারে না পৌষ সাসে ত্রিশ হাজার টাকা, বাপারে বাপ! একশত টাকার নোট তিনশত একত্রিত করার পরে। এক টাকার নোটে একগরুর গোয়াল ঘর ভরে যাবে। টাকা পয়সা ঘরে গচ্ছিত থাকলে বংশ বিস্তার করে না। উইপোকা কিংবা মাটির পেট তা খেয়ে জিবিকা পায়।
কথাকে জলে পরিণিত করে দেনমোহরের দেনা ময়লা ধোয়া যায়, সেই বা ব্যাপসা গরম কেনইবা।
সুলতানের কথার খাজে ঢুকে জমিরণ এতোটুকুই সডামন্ডপে প্রকাশ করেছিলো, যৌতুক ছাড়া আপনি আমায় গ্রহণ করেছেন সে আমার বেহেশেÍর আভাস পাওয়া সমতুল্য আপনি একই কিংবা আমার এই যৌবন ভোগ দখল করবেন কেন? আমারো পুরুষ লোভী সংপ্রিহা রয়েছে। আপনি আমার শরীর চুলায় নানান ভাবে রান্না করবেন, আমি সম্ভার দেব!
তারপর সুলতান ডামিরনের মাথার ঘুমটা কানের দুল, হাতের কাচের চুড়ি, পায়ের রোপার নূপুর, ঠোঁেট লাগানো লিপিষ্ঠিক বৃদ্ধ আব্দুলে মুছে উভয়েরই ক্ষয়িষ্ণু সরীসৃপ ডিম হয়ে গেলো। দৃর্ঘ্যদিনের পাক করা সে রান্না করা সে রান্না, বিহ্বল সাধর একে অপরের থালা চেটে-পুটে খেলো।

কাজের মৌসম দেখে বিয়ে করেছিলো সুলতান, শৈশবে জ্ঞান পাওয়া দেখে-শোনে আসছে চৈত্রের শুকনাচর, অর্থ মুদ্রার মৌসম ঋতু দেখে বিয়ে করতে ইচ্ছে হলে হয়ত বা গ্রামের অবাবী নারী-পুরুষের বৈধ্য আলিদন পিড়িতে বসাই ছরহ হবে। ঘরে চাল-ডাল নবণ মরিচ-হলুদ অবশিষ্ট নেই উঠোনে ঘরের মাজুলে শোভা পাচ্ছে খড়কুটু। অনাহার পেটে চু-চু সুরে ধুকড়ে ধুকড়ে কাধা যৌবন ক্ষুধা হয়ে যায় কালো মরিচিকা আর সাজগোজ ব্যধিত ঘরের বউ হয় পুরোনা নষ্টা নর্তকি। সুলতান লোক মুখে শুনেছে দেশের রাজধানী ঢাকায় কর্মের অজাব নেই, কুলি-মল সাফ করা থেকে আরাম্ব, জীবিত মানুষকে কেটে মৃত করা পর্যন্ত সু-ব্যবস্থা চৈতন্য। তবে টাকার মানুষগণ পোষাকে সৌখিন সক্ষমতা দৃঢ় কল্প। জনমন স্বার্থে এ এক মহা চাকচিক্যের মহা প্রকল্পই ধরে নেওয়া যায়। বিশেষ ভাবে চোখ প্যাণ্ট, চামড়ায়-চামড়ায় গেলে থাকা শার্ট নাভির নিচে ব্যাল্ট বের করে পরা, চোখে গগলস। গমের ছাউয়া চালে বৈশাখের ঝড়ে কিছু উঠে যাওয়া চুলগুলো কাটনি। একটু স্পাইক, বগলের নিচে পারফিউম এ তাদের নিত্য সখি।
অভাব গোছাতে সুলতান ঢাকায় যাবে, বিদ্যা না জানা, বর্ণক্ষর না শিখার দন্ড মানে না বুঝে পোশাক আশাকে মর্যদা আশ্রয় খুঁজে মরিয়া হয়ে উঠলো। ঢাকার মানুষগণ প্যান্ট শার্ট পরা ব্যধিত ব্যক্তিদের মানুষের মতো মৃপায়ন করে না। তাই কোনমতে প্রতিবেশী এক ভায়ের কাছ হতে শুধু কোমর ঠিক আছে অমন প্যান্ট চেয়ে এলো। এই প্রথম কোনদিন প্যান্ট পড়বে সুলতান এতোদিন ছিলো গোস্বা, আজ বড়ই লজ্জার রুপক হয়েছে আধুনিক প্যান্ট বস্ত্র। বার বারই পরক করে হাতিয়ে দেখে, আর আবেগের লজ্জায় হাসে। ঠিকঠিক হলো কি’না, উরু আরেকটু খাচার মতো খাপ খাপ হলে ভালো হতো। দুই নদীর মাঝখানে চিনামাটি চৈত্রের রৌদ্রের শুকনা হয়ে আছে, একটু বৃষ্টি কিছু খড়া কাটানো প্লাবণ, সাতাঁর কাটবে হাসঁ-মাছ, কচুরির পানার সাড়িবদ্ধদল, পানকৌড়ি-মাছরাঙা-বক চিল চেয়ে দেখবে।
সুলতান দরজায় দাড়িয়ে চোখদুটি আগ বাড়িয়ে ভালো ভাবে খোঁজ নিলো উঠানে কেই দাড়িয়ে আছে কি’না কারো সাড়াশব্দ না পেয়ে মৃদু ভাবে ডাকদিলো
জমিরণ একটু এইদিকে এসো?
কন্ঠসুরা যে ঘরের ভিতর থেকে ছড়িয়েছে তা জমিরণ কানে শুনেই আয়ত্ব করতে পেরেছে। এদিক-সেদিক না তাকিয়ে সরাসরি ঘরে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে সুলতানের দৃশ্যবি দেখে অবাক হয়ে গেলো! এই প্রথম সে ‘তার স্বামী’ কোমর হতে হবুহ পায়ের মতো কি জানি পড়েছে, বেশ ভালোই দেখাচ্ছে এই মূহুর্ত্য।ে জমিরণ সুলতানের চারিদিকে ঘোড়ে মুদু-দুদু হেসে শর্টের গোজ ছড়িয়ে দিলো। আর মনে-মনে ভাবলো একদম সাহেবের বেশ, প্রিয় পুরুষ।
সুলতান জমিরনকে কোমর চাপটে ধরে এক কেজির একটা তুলতুলে বলিশ বুকের কাছে টেনে এনে এখানে সেখানে অনবরত চুম্বন দিতে থাকলো। দুজনের যৌন জীবন শরীর ক্রমশই গরম হয়ে গেলো। চাওয়া পাওয়ার ভালোবাসার শীতল আগুনের প্রেম সিদ্ধ হয়ে যাবে। জমিরণ বলল,
এই, আলোতো কি হচ্ছে? প্রতিবেশীরা চলাফেরা করছে পদধূলীর শব্দ শুনতে পাওনা।
সুলতান জমিরনের নাভিপৃষ্ঠে হাত রেখে ঠোঁটে চুম্বন দিয়ে ন¤্র ভাবে বলল,
প্রতিবেশীরা খুবই জঘন্য ইতর, তারা জানে পুরুষ তার বৌয়ের সাথে কি, করে আমি তো পতিতালয়ে যায় নিই। লজ্জাবা ভয়ের কি’বা আসে যায়। তারা আজ দেখে না দেখার বান করে থাকবে।
এ কথা বলেই ব্লাউজের নিচ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিলো, স্বামী-স্ত্রীর বিতৃষ্ণার পানিতে ভিজে গেলো জরিমণ। বলল, দাড়িয়ে ভালোমতো পাক হচ্ছে না, এসো বিছানায় যাই? শার্টের কলার ধরে টান দিলো।
সুলতান জমিরণের মাথার চুলগুলো ভাজ করে দিতে-দিতে বলল,
ঢাকায় যাচ্ছি, এখন ওসবের সময় কৈ? কাঙ্খিত ভালোবাসার মধু আমার টপপিয়ে জমিয়ে রেখ? বিল থেকে সাগর হওয়া চাই। যেন সাতাঁর কাটার পাশাপাশি খেতেও পারি। তোমার জন্য একটা তাতীশাড়ী ব্লাউজের কাপড় কিছু এমিটেশনের নিয়ে আসবো এর বাইরে আরো চাহিদা অনুযায়ী লাগলে নিবোধের মতো বলতে পার? জমিরণের সুলতানের কথার বলার দৃষ্টিভঙ্গি শরীর দোলন রসভান দেখে শুধুই চেয়েই থাকতে ইচ্ছে করছে, কতপ্রকার বসন্তছিলো এই একটা মানুষের গভীর বনে। সংসারের অভাব অর্থের মন্দার ভাব ছুরিকরনের কারণে অল্প কয়েকদিনের জন্য চোখের আড়াল হতে চলেছে মনের আগল নই, ঢাকায় যাচ্ছে কর্মের খোজে যেন ঢাকঢোল পিটিয়ে রাষ্ট্রকে জানিয়ে উৎসবমুর পরিবেশে গ্রহণ।

জমিরণ স্বামী সোহাগী মন ধুমড়ে আসছে কাদো-কাদো গলায় বলল,
আমার কৃত্রিমসত্তা ও কিছু চাইনা। আমার পোশাক-পরিচ্ছন্ন রুপের বাহারী সবই তুমি। ভালো-ভালোই ফেরৎ এসো?
যেন দুজনেরই একই গ্রুপের রক্ত শুধু শরীর প্রতিষ্ঠানটি বিভক্ত হয়েছে মাত্র। সুলতানও বৌ বিনয়ি, সেও কাদবে-কাদবে কালো সাজ একে এসেছে আষাঢ়ের আকাশ হয়ে। জমিরণ এমন দৃশ্য দেখে ভাবলো, একদমই এইমৃহূর্তে দূবল হওয়া যাবে না আমার মাঝে সে আশ্রয়স্থল খোঁজেছে। আমাকে আরো পাকা দালালের মতোই শক্ত হতে হবে। একটু হাসি-খুশি অন্তত। বলল,

মশাই প্যান্টের ভিতরে ঢুকলেন কেমনে?
এ বলেই দুজনেই হাসতে আরাম্ব করলো। সুলতান মৃদু হেসে বলল, দেখতো বাইরে কেউ আছে কিনা যদি রয় ৩য় বিপদ। সময় বয়ে এলো।
জমিরণ চোক দুটি দরজা খোলে বাইরে উঠুন দেখে বলল, লজ্জা গাড়ি দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাও? কেউ নেই এসো।
সুলতান দরজায় দাড়িয়ে জমিরণের দিকে তাকিয়ে, আমি ঢাকায় গিয়ে কোন নারীর সংস্পর্শ করবো না। বিশ্বাস রেখো? তুমিও তেমনি থেকো। আমি তোমার ছোট ভাইকে খরর দিয়েছি বিকাল নাগাদ এসে নিয়ে যাবে।
সুলতান উঠানে দাড়িয়ে চারদিকে খোড়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে খুব বড়-বড় পায়ে এগিয়ে গেলো তার গ্রাম। ঢাকায় পৌছালো সন্ধ্যা সাতটায়। প্যান্ট-শাট পরিহিত একদম ভদ্র এবং শিক্ষিত জ্ঞ্যানি মানুষ পাঠ শহরের বৈদ্যাতিক হলুদ বাতি জ্বলসে রাস্তার দু-ধার কত ব্যস্ত নগরী, পে-পু সুরে এক গাড়ির পিছনে আরেক গাড়ী পাছা মারছে। রাস্তার এপাশ থেকে ওপাশে যাবে সে জু নেই। মানুষের দৌড়ানো পন্থা দেখলেই বোঝা যায় কত কাজ। সুলতান এদিক-সেদিক তাকিয়ে নিজ শহরের আপন মুখ খোজে বেড়াচ্ছে চোখের আলোয়, কোথাও কোন চেনা মুখ দেখা যাচ্ছেনা, খুবই বিড়ম্বনা ঠিকানা পুজি হাতে নিয়ে এসেছে কি লেখা আছে সাদা কাগজ কালো কালির ধারাই। নিজ পরনে প্যান্ট-শার্ট একদম শিক্ষিত মানুষের হবুহ। লজ্জ্যায় অন্যকে প্রদক্ষিণ করাতে পারছেনা।

পরিচয়হীন মৃত্যু ফাদঁ হয়ে এগিযে আসছে আধুনিক হওয়ার স্বাধ। এমন সময় ঠিকানা খুজতে হাওয়া ঢাকায় নতুন এসেছে হাতে মোড়ানো একটি সাদা কাগজ, অনেককেই জিগ্যাসা করেছে কোনদিকে সবই বলেছে সামনে যান? বামে মোড়ের সরাসরি এগিয়ে কিছুটা হাটলেই ডানে মোড় ওখানেই। দূঘ্যক্ষনই এসেছে ব্যক্তিটি সুলতানকে তার চোখে পুরাতন বাসিন্দা হলো। কাছে এসে কাগজটি সুলতানের হাতে দিয়ে বলল,
দেখুনতো ভাই ঠিকানাটা কোন দিকে?
যখন ঠিকানা সংকটে ভোগ সুলতান নিজে কোন দিকে যাবে গন্তত্ব্যের স্থান পাত্র জানা নেই। ঠিকানা হাতেই বিদ্যা শিক্ষার অভাবে যেতে পারছেনা। লজ্জার প্রাণ যায়-যার হবার মতোই বটে।
সুলতান চোখের সামনে কাগজটি ধরে বলল, ভাই ঠিকই লিখছে।
একথা বললেই দৃত পায়ে স্থান পরিবর্তন করনো। লোকটি মনে-মনে বলল, আখ যেমন, মিষ্টিও তেমন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের

error: Alert: কপি হবেনা যে !!