শুক্রবার , ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ || ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - হেমন্তকাল || ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

পানিতে ডুবা, দুই শিক্ষার্থীর জানাযা সম্পন্ন, মতিয়া চৌধুরীর শোক প্রকাশ

প্রকাশিত হয়েছে -

নকলায় ভোগাই (ইছামতি) নদীর প্রবাহমান স্রোতে নিমজ্জিত হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়েছিল তারা তারাকান্দা এলাকার রাবার ড্যামের পাশে। নিহত দুজনের নাম উমর ফারুক (১২) ও শান্ত ইসলাম (১২)। ফারুক দুজন নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শান্ত মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ফারুকের পিতার নাম আব্দুল আলিম গেন্দা। শান্ত ইসলামের বাবার নাম আক্তার মিয়া। নিহত দুজনের বাড়ি নকলা পৌরসভার গড়েরগাও গ্রামে।

গড়েরগাও গ্রামের “বিথি একাডেমী” কোচিং সেন্টারের উদ্যোগে কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১শ টাকা করে নিয়ে ৫ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ১৫জন শিক্ষার্থী নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে দুটি ভ্যান গাড়ী যোগে নকলা পৌরসভার গড়েরগাও এলাকা থেকে তারাকান্দা গ্রামের ভোগাই (ইছামতি) নদীতে স্থাপিত রাবার ড্যামে আনন্দ উপভোগ করতে গিয়েছিল। রাবার ড্যামের কাছে গিয়ে পানিতে লাফালাফি করে আনন্দ করার সময় ৩জন শিক্ষার্থী গভীর পানিতে পড়ে যায়, এদের মধ্যে একজনকে তাৎক্ষণিক জীবিত উদ্বার করা সম্ভব হলেও ফারুক আর শান্তকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় নাই। স্থানীয়দের প্রচেষ্ঠায় দীর্ঘ প্রায় ২ ঘন্টা পর দুজনের মৃতদেহ পানির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। আনন্দ ভ্রমণ দলের অংশগ্রহণ কারী আফজালুন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মেঘলা আক্তার ও নকলা শাহরিয়া ফাজিল মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া শেরপুর টাইমসকে জানায়, তারা বিথি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী হিসেবে স্যারদের কাছে জনপ্রতি একশ টাকা চাদা দিয়ে ঈদ আনন্দের ভ্রমণে বেরিয়েছিল। মেঘলা ও শাকিল দুজনই অনুরুপভাবে পানিতে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু তাদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন দৌরে এসে তাদেরকে নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে।

দুজন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ লাশগুলো দেখার জন্য ভীড় করছিল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় গড়েরগাও গোরস্থান প্রাঙ্গনে মরহুম দুজন শিক্ষার্থীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নকলা-নালিতাবাড়ীর সংসদ সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সমাবেত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। জানাজায় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে।

Advertisements