শুক্রবার , ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ || ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ - হেমন্তকাল || ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী রোগ `সোরিয়াসিস’

প্রকাশিত হয়েছে -

অসংখ্য সোরিয়াসিস(Psoriasis) পেশেন্টদেরকে দিনের পর দিন ফাংগাল ইনফেকশন/একজিমার রোগী হিসেবে অপচিকিৎসার শিকার হতে দেখি। সময় গড়ায় কিন্তু রোগীর রোগ সারে না!

মাথার তালুর জেদি খুশকি, সাধারণ খুশকি হিসেবেই হয়তো ট্রিটেড হচ্ছিল। যখন কিছুতেই আর সারছেনা তখন আসলে আস্তে আস্তে বের হয় রোগটা সোরিয়াসিস, সাধারণ খুশকি নয়!


সোরিয়াস অবহেলিত একটি রোগ। ডায়াগনোসিস এই অনেকটা সময় গড়ায়। এটি এমন একটি রোগ যার সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি। আজকের পোষ্টটি এই রোগটির ব্যাপারে আপনাদেরকে সচেতন করতে লিখছি।

Advertisements


সোরিয়াসিস (Psoriasis) ত্বকের দীর্ঘমেয়াদী রোগগুলোর একটি। Psoriasis is an autoimmune disease। রোগটি হবার অনেকগুলো কারনের মাঝে genetic predesposition & envitonmental trigger অন্যতম। সেকারনে ছোঁয়াচে না হলেও এটি পরিবারের অন্য সদস্যদের মাঝেও দেখা যায়।
বয়স এবং লিংগ নির্বিশেষে রোগটি যেকারো হতে পারে।

🔹সোরিয়াসে আক্রান্ত হলে কিভাবে বুঝব?
১. সোরিয়াসে ত্বকে যে পরিবর্তন হয় তা খুব ইউনিক। আক্রান্ত স্থান লালচে হয়, প্রচুর scale/flakes বা মরা চামড়া ওঠে যা silvery white হিসেবে প্রতীয়মান হয়। হাঁটু, কনুই, কানের পেছনে, কোমড়ে, নাভির আশেপাশে, মাথার তালুতে এরকম lesion চোখে পড়ে। সারা শরীরের অন্যত্র ও হতে পারে।
চুলকানি থাকতে পারে, নাও পারে।

২. সোরিয়াসে নখে বেশ কিছু পরিবর্তন আসে। সেগুলোর নাম শুনে কি জিনিস বোঝা রোগীর জন্যে কঠিন হলেও অন্তত বিভিন্ন নখে যে ছোট ছোট গর্ত (pit) হয় এটা অনেকেই ধরতে পারেন।

🔹সোরিয়াস রোগটির সবচেয়ে বড় বিপদ Erythroderma বা Exfoliative Dermatitis যাতে শরীরের বিরাট অংশ আক্রান্ত হয় এবং চামড়ার উপরিভাগ উঠে আসতে শুরু করে। এটি একটি স্কিন ইমার্জেন্সি।
অনেক সোরিয়াসিস রোগী ধীরে ধীরে আরথ্রাইটিসে আক্রান্ত হন। সোরিয়াস মেটাবলিক সিনড্রোম(স্থূলতা+রক্তে চর্বির আধিক্য+ প্রেশার + ডায়েবেটিস) এর সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট।

🔹সোরিয়াসে ডায়াগনোসিসটি ঠিকভাবে হওয়া ভীষণ জরুরী কারন অন্যান্য বিভিন্ন রোগে সচরাচর দেয়া হয় এমন অসংখ্য ওষুধ সোরিয়াস আক্রান্তদের জন্যে সেবন নিষিদ্ধ।জানা না থাকলে এই ওষুধগুলো হঠাৎ সুপ্ত থাকা রোগটিকে বাড়িয়ে দিতে পারে।
সোরিয়াসিসের সব রোগী কি খারাপ দিকে যান? না। এই রোগটি আসলে কখনো নিরাময়যোগ্য না হলে ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। বছরের পর বছর রোগটি কোন বড়সড় ঝামেলা না করেই সুপ্ত থাকতে সক্ষম। যেকোন ইনফেকশন, ওষুধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Disease Flare এর মূল কারণ।

🔹ক্লিনিক্যালি হিস্ট্রি এবং ত্বকের পরিবর্তন দেখে সোরিয়াস ডায়াগনোসিস সম্ভব। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডকুমেন্টশনের প্রয়োজনে একটি স্কিন বায়োপসি করে রাখা হয়।

🔹ট্রিটমেন্ট হিসেবে মুখে খাওয়ার ওষুধ বা লাগানোর ক্রিম দেয়া হয়ে থাকে। ঠিক কতটুকু জায়গা আক্রান্ত তার উপর, রোগীর অন্যান্য রোগের উপর ট্রিটমেন্ট পুরোপুরিভাবে নির্ভর করে।

আসাদুল ইসলাম
উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শ্রীবরদী, শেরপুর ।