আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিক নীতিশ রায়

আলোকচিত্রী ও ফটোসাংবাদিক নীতিশ রায় ১৯৪৪ সালের ২২ অক্টোবর শেরপুর শহরের নয়আনী বাজার মহল্লায় জন্ম গ্রহন করেন। তার বাবা নন্দ হরি রায় ও মা সুবর্ণবালা রায়। স্ত্রী প্রতিভাবান লেখক ও কবি সন্ধ্যা রায়। তিনি ছিলেন নি:সন্তান। ১৯৭২ সালে শেরপুর কলেজ থেকে তিনি বিএ (পাশ) করেন।
১৯৬৭ সাল থেকেই তিনি প্রথমে শখে পরবর্তিতে পেশাদারী ফটোগ্রাফীর কাজ শুরু করেন। স্বাধীনতার যুদ্ধে ক্যামেরা হাতেই মুক্তিযুদ্ধের রনাঙ্গনে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি তুলেন অসংখ্য ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের রণপ্রস্তুতি, রক্তাক্ত বাংলাদেশ, যুদ্ধ জয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের বিজয়ের দুর্লভ দৃশ্য ক্যামেরা বন্দী করেছিলেন আলোকচিত্রী নীতিশ রায়। তার বেশ কিছু ছবি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে ।
নীতিশ রায় ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শরণাথী হিসাবে ভারত যান। ওই বছরের ১৬ জুন তিনি মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত ‘জয়বাংলা’ পত্রিকার ফটোসাংবাদিক হিসাবে যোগ দেন ।স্বাধীনতা পরবতী সময়ে আশির দশক জুড়ে তিনি ফটো সাংবাদিক হিসেবে সাপ্তাহিক একতায় এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে ফটো সাংবাদিক ও শেরপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সত্তর দশক থেকে আশির দশক পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলার বাণী, সংবাদ, মাসিক ফটোগ্রাফীসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক পত্রিকায় তার অসংখ্য ছবি ছাপা হয়।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আলোকচিত্র প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও পান।
১৯৮২ সালে তিনি তাঁর ‘তৃষ্ণা’ ছবির জন্য জাপানে অনুষ্ঠিত সপ্তম এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় ‘ইয়াকুল্ট’ পুরস্কার পান।
নীতিশ রায় উদীচী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও শেরপুর জেলা শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন কৃষ্টি প্রবাহ গণ সাংস্কৃতিক সংগঠন, ত্রিসপ্তক নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গেও জড়িত ছিলেন । তিনি ২০১৭ সালের ৮ জুন পরলোকগমন করেন।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের