আন্দোলন সংগ্রামে শেরপুর ।। পাগলপন্থী আন্দোলন

শাহরিয়ার মিল্টন :

অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ পর্যন্ত শেরপুরবাসীর দীর্ঘ প্রায় দেড়শত বছরের সংগ্রামের ইতিহাস । এ সংগ্রাম প্রত্যক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছিল প্রজাদের উপর জমিদারদের অন্যায় ও অত্যাচারের বিরদ্ধে এবং পরোক্ষভাবে অনেক ক্ষেত্রে ইংরেজ শাসন উচ্ছেদকল্পে ।
এক সময় পাগলপন্থি নেতা টিপু শাহ শেরপুরে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীন রাষ্ট স্থাপন করেছিলেন। কংশ নদীর তীরবর্তী লেটির কান্দা গ্রামে তার বংশধররা এখনও পাগল বাড়ীতে বসবাস করছেন ।
জমিদারদের অত্যাচারের বিরদ্ধে প্রজারা প্রায় সময়ই আন্দোলনে লিপÍ থাকতেন। আর এসব আন্দোলনের মধ্যে পাগলপন্থী আন্দোলন, ভাওয়ালি আন্দোলন,নানকার আন্দোলন, ট›ক আন্দোলন ,তেভাগা আন্দোলন, প্রজা আন্দোলন অন্যতম ।

পাগলপন্থী আন্দোলন:

Advertisements

১৮২৫ সালে টিপু শাহ এর নের্তৃত্বে শেরপুরে পাগলপন্থি আন্দোলন সংগঠিত হয় ।”সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্ট,কেউ কারোর অধীন নয় । সুতরাং কে উচ্চ, কে নীচ এরুপ প্রভেদ করা সঙ্গত নয়” । টিপু এই পাগলপন্থী ধর্মমতে,গারোদের দীক্ষিত করেন। টিপুর মতালম্বীরা ও শেরপুর পরগনার অনেক প্রজা দলবদ্ধ ও বিদ্রোহী হয়ে জমিদারদের খাজনা দেওয়া বন্ধ করে দেন । তারা শেরপুর দখল করে গড়জরিপা এলাকায় মাটির দূর্গে টিপুর রাজধানী স্থাপন করেন । টিপু শাহর শাসন নীতি ছিল উদার, জনকল্যাণ মূলুক ও ধর্মীয় অনুশাসন ভিত্তিক ।

দুই বছর ইংরেজ বাহিনী ও জমিদারদের বিরদ্ধে অনেক খন্ড যুদ্ধ করে তারা এই রাজ্য টিকিয়ে রাখেন । ১৮২৬ সালের শেষদিকে রংপুর থেকে এক বিশাল সৈন্যদল জামালপুর এসে ঘাটি গড়েন । ১৮২৭ সালে তিনি আটক হন । ময়মনসিংহের সেসন জজের বিচারে টিপুর যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয় । পরবর্তিতে জাকু পাথর ও দুবরাজ পাথরের নেতৃত্বে এ আন্দোলন অব্যাহত থাকে । ১৮৩৪ সালের মধ্যে জনগনের অনেক দাবী পূরণ হওয়ায় এই আন্দোলন স্থিমিত হয়ে আসে । পচিঁশ বছর কারাভোগের পর ১৮৫২ সালের মে মাসে টিপু শাহ জেলেই মারা যান । চলবে…

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের